ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সাংবাদিকদের পেশাদারিত্ব বজায় রাখতে ও পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশের(পিআইবি) উদ্যোগে নির্বাচনকালীন সাংবাদিকতা বিষয়ক দুই দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মসূচি সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার দুই দিনব্যাপী প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশের(পিআইবি) কনফারেন্স রুমে এই প্রশিক্ষণে শরীয়তপুর ও ভোলার বিভিন্ন গণমাধ্যমের ২৬ জন সাংবাদিক অংশ নেন। প্রশিক্ষণ শেষে অংশগ্রহণকারী সকল সাংবাদিকের মাঝে সনদ বিতরণ করা হয়। এসময় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রনালয়ের যুগ্ম সচিব(প্রেস) রিয়াসাত আল ওয়াসিফ।
প্রশিক্ষণে নির্বাচনী আইন ও প্রশাসনিক কাঠামো, নির্বাচনকালীন সাংবাদিকতার নৈতিকতা, ফ্যাক্টচেকিং, গুজব ও অপপ্রচার মোকাবেলা, পাশাপাশি সাংবাদিকদের শারীরিক ও ডিজিটাল নিরাপত্তা বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়।
প্রশিক্ষক হিসেবে দিকনির্দেশনা দেন পিআইবি’র সিনিয়র প্রশিক্ষক গোলাম মোরশেদ, সারা বাংলা ডট নেট এর হেড অব নিউজ গোলাম সামদানী ভূঁইয়া, দৈনিক নয়া দিগন্তের বিশেষ প্রতিনিধি হামিদুল ইসলাম সরকার ও মোহম্মদ সোহেল।
প্রশিক্ষণে পিআইবি’র মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফ বলেন, নির্বাচনকালীন সাংবাদিকদের পেশাদারিত্বের পরিচয় দিতে হবে। কারণ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য তাদের ভূমিকা অপরিসীম। নির্বাচনের সময় গণমাধ্যমের দায়িত্ব শুধু খবর প্রকাশ নয়, বরং সত্য, নিরপেক্ষতা ও জনস্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে জনগণের আস্থা রক্ষা করা। গুজব ও অপপ্রচারের যুগে সাংবাদিকদের তথ্য যাচাইয়ের দক্ষতা বাড়ানোও জরুরি।
দ্বিতীয় দিন প্রধান অতিথির বক্তব্যে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রনালয়ের যুগ্ম সচিব রিয়াসাত আল ওয়াসিফ বলেন, নির্বাচন একটি রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ। এ সময়ে গণমাধ্যমের ভূমিকা অত্যন্ত সংবেদনশীল ও দায়িত্বপূর্ণ। সাংবাদিকদের একটি বস্তুনিষ্ঠ ও পেশাদার সংবাদ পরিবেশনার মাধ্যমে ভোটারদের সঠিক তথ্য জানানো এবং জনমত গঠনে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে হবে। নির্বাচনকালীন সংবাদ পরিবেশনায় সামান্য অসতর্কতা ভুল বার্তা ছড়িয়ে দিতে পারে, যা নির্বাচন ও সামাজিক স্থিতিশীলতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তাই তথ্য যাচাই ছাড়া কোনো সংবাদ প্রকাশ না করা, গুজব ও অপতথ্য থেকে দূরে থাকা এবং সকল রাজনৈতিক দলের প্রতি সমান দৃষ্টিভঙ্গি বজায় রাখা জরুরি।
প্রধান অতিথি আরও বলেন, নির্বাচন কমিশনের আচরণবিধি ও প্রচলিত আইন মেনে রিপোর্টিং করাই একজন পেশাদার সাংবাদিকের দায়িত্ব। ব্যক্তিগত মতামত ও তথ্যভিত্তিক সংবাদ যেন একে অপরের সঙ্গে মিশে না যায়, সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।
