শরীয়তপুরে সুশাসনের জন্য নাগরিক-সুজনের আয়োজনে ‘জনগণের মুখোমুখি’ অনুষ্ঠান চলার সময় সুপ্রিম পার্টির প্রার্থীকে হেনস্তা ও বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় নেতার ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে বিএনপির নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে।
শুক্রবার(৩০ জানুয়ারি) বিকেলে শরীয়তপুর সরকারি কলেজ মাঠে সুজনের আয়োজিত ‘‘জনগণের মুখোমুখি’’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে এ ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার বিকেল ৩টায় শরীয়তপুর সরকারি কলেজ মাঠে ‘জনগণের মুখোমুখি’ নামের এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে সুশাসনের জন্য নাগরিক-সুজন। এতে অংশ নেয় শরীয়তপুর-১ আসনের ৯ সংসদ সদস্য প্রার্থী। তারা নিজেদের ভাবনা তুলে ধরেন এবং উপস্থিত ভোটারদের প্রশ্নের জবাব দেন।
ওই অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেয়ার সময় শরীয়তপুর-১ আসনে বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির মনোনীত প্রার্থী নুর মোহাম্মদ মিয়া বলেন, ২০০১ থেকে ৬ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ দুর্নীতিতে প্রথম স্থানে ছিল’ তার বক্তব্য শেষ হতেই উপস্থিত বিএনপির সমর্থকরা ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানায়। তারা ওই বক্তব্য প্রত্যাহারের দাবি তুলে নুর মোহাম্মদকে স্টেজ থেকে নামিয়ে দেয়ার চেষ্টা করেন এবং বক্তব্য দিতে বাধা প্রদান করে হেনস্তা করার অভিযোগ উঠে।
এ সময় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি মাহমুদ পারভেজ প্রতিবাদ করে বলেন, ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরী না করে এমন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা উচিৎ হয়নি’ এতে তার ওপর চড়াও হয়ে কিল-ঘুষির পাশাপাশি চেয়ার দিয়ে আঘাত করা হয়। পরিস্থিতি আরও অবনতি হলে অনুষ্ঠানে উপস্থিত অন্যান্য প্রার্থীদের অনুরোধ এবং পুলিশের হস্তক্ষেপের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণে আসে।’
গণ-অধিকার পরিষদের প্রার্থী ফিরোজ আহম্মেদ বলেন, একজন প্রার্থী তার মতামত ব্যক্ত করতেই পারেন। ভুল কিছু বললে জবাবদিহি করা যেতে পারে, কিন্তু তাকে হেনস্তা করা কাম্য নয়। এজন্য এ ধরনের ঘটনায় আমি মর্মাহত, শংঙ্কিত, কি হবে আগামীর বাংলাদেশে।
বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির প্রার্থী নুর মোহাম্মদ মিয়া বলেন,‘‘আমরা নির্বাচনে যেই লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডের কথা বলছি তারা মানছে না। এমন ঘটনা ঘটলে আমরা কীভাবে নির্বাচনের মাঠে থাকবো? ওনার (বিএনপির প্রার্থী) কথা ওনি বলবে। আমি সেখানে দুর্নীতির কথা বলেছি। দুর্নীতির সমস্যা সমাধানে কাজ করবো সেই কথা বলেছি। তারা যদি এভাবে বাঁধা দেয় তাহলে ভাববো তারা দুর্নীতির পক্ষে।’’
হামলার বিষয়ে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী সাঈদ আহমেদ বলেন, ‘‘আমি ন্যাচারালী আশা করিনি, যে দর্শকদের ভিতরে এরকমটা হবে। আমাদের প্রার্থীরা যারা ছিলাম, আমরাতো সুন্দর পরিবেশ বজাশ রেখেছিলাম। কিন্তু দর্শকদের ভিতরে এটা হয়েছে। এটা আসলে সত্যি আমি মনে করি ঠিক হয়নি।’’
পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) শাহ আলম বলেন, ‘ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলাম। কিছুটা হট্টগোল হয়েছিলো। পরবর্তীতে বিষয়টি শান্ত করেছি। এ বিষয়ে কোনো অভিযোগ পাইনি।’
