শরীয়তপুর জেলায় একযোগে তিনটি অভিযান পরিচালনা করেছে যৌথবাহিনী। এসব অভিযানে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র, গোলাবারুদ, দেশীয় অস্ত্র ও মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় শরীয়তপুরের সাবেক ছাত্রদল নেত্রীসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শরীয়তপুর সদর, নড়িয়া ও ডামুড্যা উপজেলা আর্মি ক্যাম্প থেকে সেনাবাহিনী ও পুলিশের সমন্বয়ে একযোগে তিনটি অভিযান পরিচালিত হয়।
এ বিষয়ে সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে শরীয়তপুর স্টেডিয়াম সেনা ক্যাম্পে প্রেস ব্রিফিং করা হয়।
প্রেস ব্রিফিংয়ে বক্তব্য রাখেন শরীয়তপুর আর্মি ক্যাম্পের অধিনায়ক লে. কর্ণেল মোহাম্মদ মেহেদী হাসান।
তিনি জানান, শরীয়তপুর সদর আর্মি ক্যাম্প থেকে মেজর সাজেদুর রহমানের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে শহরের অঙ্গারিয়া স্বর্ণঘোষ এলাকায় রাত আনুমানিক ৩টার দিকে একটি বাড়িতে অভিযান চালানো হয়। এ সময় একটি টমাহক শটগান, দুটি একে-২২ বোর সেমি অটোমেটিক রাইফেল, তিনটি ম্যাগাজিন, ৭১ রাউন্ড শটগান এমিউনিশন, ৫৭ রাউন্ড রাইফেল এমিউনিশন, ১২ রাউন্ড ৯ মিমি পিস্তলের গুলি, একটি বিদেশি ড্যাগার, তিন বোতল বিদেশি মদ ও মাদক সেবনের সরঞ্জামাদি উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় সন্ত্রাসী মন্টু তালুকদারের স্ত্রী ইসমত জাহান ওরফে ইলোরা হাওলাদারকে গ্রেপ্তার করা হয়। মন্টু তালুকদার ৭টি মামলায় অভিযুক্ত বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।
একই সময়ে নড়িয়া আর্মি ক্যাম্প থেকে মেজর অনন্যের নেতৃত্বে মুক্তারের চর ইউনিয়নের নয়ন মাতবর কান্দি গ্রামে অভিযান চালানো হয়। সেখানে একটি একনলা বন্দুক, সাতটি কার্তুজ, তিনটি রামদা ও একটি চাইনিজ কুড়াল উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় রাব্বি মোড়ল নামে একজনকে আটক করা হয়।
অপরদিকে, ডামুড্যা আর্মি ক্যাম্প থেকে মেজর আবরারের নেতৃত্বে ডামুড্যা থানার ইরিকটি এলাকায় পরিচালিত অভিযানে একটি ইলেকট্রিক শক মেশিন, দুটি চাইনিজ কুড়াল, দুটি চাপাতি ও দুটি ছুরি উদ্ধার করা হয়েছে।
শরীয়তপুর আর্মি ক্যাম্পের অধিনায়ক লে. কর্ণেল মোহাম্মদ মেহেদী হাসান বলেন, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে শরীয়তপুর জেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সেনাবাহিনী অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করে যাচ্ছে। জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
