শরীয়তপুরের জাজিরার মূলনা ইউনিয়নের গঙ্গানগর বাজারে গত অক্টোবরের ১ তারিখ দিবাগত রাতে একটি মুদি দোকান থেকে আগুনের সূত্রপাতে ৫টি দোকান পুরে যায়। এরমধ্যে ছিল- ফার্মেসী, নরসুন্দর, মোবাইল ফ্ল্যাক্সিলোড-বিকাশ, মুদি ও চায়ের দোকান।
অভিযোগ উঠেছে, পুড়ে যাওয়া মুদি দোকানের মালিক সাইদুল ঢালী স্থানীয় বিভিন্নজনের থেকে টাকা ধার করেছেন, কয়েকটি লোন করেছেন এতে তিনি অন্তত ৩০ থেকে ৪০ লাখ টাকার মত ঋণী রয়েছেন, এছাড়াও তার একটি ইন্সুরেন্স রয়েছে। যেখান থেকে তিনি তার দোকান আগুনে পুড়ে যাওয়ার কারনে ক্ষতিপূরণ পেতে পারেন। সে কারনে তিনি নিজে পেট্রোল ছিটিয়ে তার দোকানে আগুন লাগিয়েছেন।
এবিষয়ে অন্তত ২০ লাখ টাকার ক্ষতির মুখে পড়া স্থানীয় ঔষধ ব্যবসায়ী ও পুড়ে যাওয়া ফার্মেসীর মালিক দিপক দাস জাজিরা থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগে তিনি বলেছেন- গত ২ অক্টোবর আনুমানিক রাত ১২.১০ সময় মুদি দোকানি সাইদুল ঢালীর দোকানে আগুন লাগে। সাইদুল ঢালীর দোকান ঘরের আগুন তার ঔষধের ফার্মেসী দোকানে লেগে যায়। এতে তার অন্তত ২০ লাখ টাকার ক্ষতি সাধন হয়েছে। পরেরদিন পার্শবর্তী এক তেল ব্যবসায়ী তাকে জানায়, পহেলা অক্টোবর সন্ধায় সাইদুল ঢালী আধা লিটার পেট্রোল ক্রয় করার জন্য যায় তবে সাইদুলকে ওই তেল ব্যবসায়ীর সন্দেহ হওয়ায় তিনি তাকে পেট্রোল দেননি। পরে গঙ্গানগর বাজারের আরেকজন তেলের ব্যবসায়ী দিপককে জানিয়েছে তার দোকান থেকে সাইদুল ঢালী ১ অক্টোবর রাত সারে ১০টার সময় স্থানীয় রিয়াদ নামে একজনের মোটরসাইকেলের জন্য লাগবে বলে আধা লিটার পেট্রোল ক্রয় করে নিয়েছে। সাথে সাথে দিপক দাস বিষয়টি যাচাইয়ের জন্য রিয়াদ নামে ব্যক্তির সাথে যোগাযোগ করলে রিয়াদ মোল্লা ওই বিষয়ে কিছু জানেন না বলে জানায়। একারনে অভিযোগকারী ঔষধ ব্যবসায়ী ধারণা করছেন সাইদুল ঢালী বড় অংকের ঋণ থাকার কারনে ও ইন্সুরেন্সের টাকা পাওয়ার জন্য নিজেই নিজের দোকানে ইচ্ছাকৃত ভাবে আগুন লাগিয়েছেন। পরবর্তিতে পুরো বিষয়টি বাজার কমিটিকে অবগত করা হলেও দায়িত্বপ্রাপ্তরা কোন ধরণের পদক্ষেপ নেয়নি।
অভিযোগকারী পুড়ে যাওয়া ফার্মেসীর মালিক দিপক দাস বলেন, ‘‘আমার ফার্মেসীতে অন্তত ২০ লাখ টাকার ঔষধসহ মালামাল ছিল। অথচ যে মুদি দোকানে আগুন লেগেছে সেখানে সর্বোচ্চ ৫ হাজার টাকার মালামাল ছিল। কিছু প্রমাণ পাওয়ার পর সাইদুল ঢালী নিজেই তার দোকানে আগুন লাগিয়েছে কিনা তার কাছে জানতে গেলে সে কোন সদুত্তর দেয়নি। বরঞ্চ এড়িয়ে গিয়ে এখন বাজারের আসেপাসে আসেনা। এদিকে আমি সব হারিয়ে পুরো নিস্ব হয়ে গিয়েছি। আমি চাই, এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত হোক। তাহলে সত্যটা বেড়িয়ে আসবে।’’
আগুনে পুড়ে যাওয়া আরেক দোকান মালিক সফিক খান বলেন, ‘‘আমার মোবাইল ফোনের ফ্ল্যাক্সিলোড ও বিকাশের দোকান ছিল। ওইদিনের আগুনে আমারও বেশ ক্ষতি হয়েছে। দোকান থেকে কিছুই বের করতে পারিনি।’’
তিনি আরও বলেন, ‘‘আমরা যেসকল প্রমাণ পেয়েছি তাতে স্পষ্ট সাইদুল তার দোকানে নিজেই আগুন লাগিয়েছে। এর সঠিক তদন্ত করলে আসল সত্য বেড়িয়ে আসবে।’’
অগ্নিসংযোগের রাতে মুদি দোকানি সাইদুল ঢালীর ক্রয় করা পেট্রোলের দোকানের মালিক মো: রানার সাথে কথা বললে তিনি জানান, পুড়ে যাওয়া মুদি দোকানের মালিক সাইদুল নিজেই রাত সারে ১০টার দিকে তার দোকান থেকে আধালিটার পেট্রোল কিনে নিয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে গঙ্গানগর বাজার কমিটির সাধারণ সম্পাদক শেখ আব্দুল বাতেনের কাছে জানতে চাইলে তিনি দ্বায় এড়িয়ে যান। কোন তদন্ত করেছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমরা এটি নিয়ে আগাতে পারিনি।’
জাজিরা ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের দায়িত্বপ্রাপ্তরা জানান, গঙ্গানগর বাজারে আগুন লাগার পর তারা তা নিয়ন্ত্রণে কাজ করেছেন। সেখানে ৫টি দোকান পুড়েছে। কেউ আবেদন করলে তারা তা তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিল করবে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত মুদি দোকানি সাইদুল ঢালীর বাড়ীতে গেলে জানানো হয় তিনি নামাজে গিয়েছেন। পরে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করার পর না আসায় আবারও জানতে চাইলে জানানো হয় তিনি কোথায় আছেন তারা জানেন না। পরে বেশ কিছুক্ষণ অপেক্ষা করার পর তাকে না পেয়ে তার মুঠোফোনে একাধিকবার কল দিলেও তিনি তা রিসিভ করেননি।
এবিষয়ে জাজিরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) মোহাম্মদ মাইনুল ইসলাম বলেন, ‘‘গঙ্গানগর বাজারে আগুন লাগানোর বিষয়ে একটি অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি নিখুঁতভাবে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।’’
