শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলায় কীর্তিনাশা নদী থেকে ড্রেজার দিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের প্রতিবাদ করায় এক রিকশা চালককের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে।
মঙ্গলবার (২২ জানুয়ারি) রাত সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার কানারগাও এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আহত দুলাল সরদার (৪৫) উপজেলার কানারগাও এলাকার মৃত মিয়াচান সরদারের ছেলে। এসময় তাকে উদ্ধারে এগিয়ে আসলে ছেলে ও স্ত্রীর উপর হামলা চালায় অভিযুক্তরা। হামলার ঘটনার চার জনের নাম উল্লেখ করে আদালতে মামলা দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী দুলাল সরদার।
হামলায় জড়িতরা হলেন নড়িয়া উপজেলার কানারগাও এলাকার রাজ্জাক সরদারের ছেলে আঃ রব সরদার (৪০), সুমন সরদার (৩৬), দেলোয়ার সরদার (৩০) ও আব্দুল আলী সরদারের ছেলে রাজ্জাক সরদার (৬০)।
পুলিশ ও স্থানীয় সুত্রে জানা যায়, উপজেলার ফতেজঙ্গপুর ইউনিয়নের কানারগাও এলাকার কীর্তিনাশা নদীর পাড়ে দীর্ঘদিন ধরে একটি চক্র অবৈধভাবে ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন করে আসছিল। এ বিষয়ে নদী পাড়ের বাসিন্দা দুলাল সরদার প্রশাসনের কাছে অভিযোগ করলে ক্ষিপ্ত হয়ে আসামিরা বিভিন্ন সময় হুমকি দিতে থাকে। এ নিয়ে গত শুক্রবার রিকশা চালক দুলাল সরদারকে মারধর করে অভিযুক্তরা। ওইদিন বিকেলে দুলাল সরদারের স্ত্রী রুনা বেগম বাদী হয়ে আসামিদের বিরুদ্ধে নড়িয়া থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। এতে আরও ক্ষিপ্ত হয় আসামিরা। থানায় অভিযোগের বিষয়টি জানতে পেরে গত রবিবার রাতে বাজার থেকে বাড়ী ফেরার পথে দুলাল সরদার, তার ছেলে ও স্ত্রীর উপর পূর্বপরিকল্পিতভাবে হামলা চালায় অভিযুক্তরা। ধারালো অস্ত্রের আঘাতে দুলাল সরদারের মাথা ও কানে মারাত্মক জখম হয় পাশাপাশি ছেলে ওমর ফারুকের হাত ও মাথায় সহ স্ত্রী রুনা বেগম গুরুতর আহত হয়। পরে স্থানীয়রা মুমূর্ষু অবস্থায় আহতদের উদ্ধার করে নড়িয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। দুদিন ধরে চিকিৎসা দেওয়া হলেও এখনো অবস্থার উন্নতি হয়নি। বর্তমানে পরিবারটি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে।
স্থানীয় কবির হোসেন বলেন, অবৈধ ড্রেজার ব্যবসায়ীদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি। পাশাপাশি যারা একজন রিকশা চালককের ওপর এই সন্ত্রাসী হামলা করেছে তাদেরকে দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানাই। তিনি বলেন, দুলাল গরীব মানুষ। রিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করে। তাকে এইভাবে মারধর করা ঠিক হয় নি। আমাদের এখানে প্রতিবছর নদী ভাঙ্গনের শিকার হয় শতশত মানুষ। এর একমাত্র কারণ নদী থেকে অবৈধ বালু উত্তোলন। এগুলো বন্ধ করা না হলে নদী ভাঙ্গনের পাশাপাশি আমাদের মারাত্মক ক্ষতি হবে।
ভুক্তভোগী রিকশা চালক দুলাল সরদার বলেন, আমার বাড়ী নদীর পাড়ে হওয়াতে একাধিকবার ভাঙ্গনের শিকার হয়েছি। এখানে নদী ভাঙ্গনের মূল কারণ অবৈধ বালু উত্তোলন। আমি একমাস ধরে তাদের নিষেধ করেছি বালু উত্তোলন করা যাবে না। তারা আমার কথা না শুনলে আমি বাধ্য হয়ে ইউএনও স্যারকে জানালে ক্ষিপ্ত হয়ে আমাকে গত শুক্রবার মারধর করে। আমার স্ত্রী থানায় অভিযোগ দিলে তাঁরা আরও ক্ষিপ্ত হয়ে রবিবার রাতে বাজার থেকে বাড়ী ফেরার পথে হত্যার উদ্দেশ্যে আমার পরিবারের উপর অতর্কিতভাবে হামলা চালায়। আমি এই হামলার সঠিক বিচার চাই।
ভুক্তভোগী রিকশা চালক দুলাল সরদারের স্ত্রী রুনা বেগম বলেন, অসাধু ড্রেজার ব্যবসায়ীরা রাতের আধারে বালু উত্তোলন করে বিক্রি করে। এভাবে চলতে থাকলে কীর্তিনাশা নদীতে আবারও ভাঙন দেখা দিবে। সেবিষয়ে আমার স্বামী প্রতিবাদ করতে রাতে বাড়ি ফেরার পথে অবৈধ ড্রেজার ব্যবসায়ী রাজ্জাক সরদারের নেতৃত্বে আঃ রর সরদার, সুমন সরদার,দেলোয়ার সরদার দলবল নিয়ে অতর্কিতভাবে আমার স্বামীর ওপর হামলা করেছে। আমি এই হামলার আগে যখন হুমকি দিয়েছে তখন আমি নড়ীয়া থানায় অভিযোগ দায়ের করছি কিন্তু পুলিশ কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। তখন পুলিশ ব্যবস্থা নিলে দ্বিতীয় বার এই ঘটনা ঘটতো না। আমরা উপায় না পেয়ে আদালতে মামলা দায়ের করেছি। আমি ন্যায় বিচার চাই।
এ বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্যের জন্য বারবার চেষ্টা করেও তাদের কাউকে পাওয়া যায়নি।
জানতে চাইলে নড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) বাহার মিয়া বলেন, “খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়েছিল। এর আগের ঘটনায় আমাদের এখানে লিখিত অভিযোগ করা হয়েছিল। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। রবিবারের ঘটনার বিষয়ে পুলিশকে জানানো হয়নি।
