শরীয়তপুরের নড়িয়ায় নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। সংঘর্ষের সময় শতাধিক ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে অন্তত ২০-২৫ টি বসতঘরে হামলা ও লুটপাট চালানো হয়।
সোমবার(২৩ মার্চ) ভোরে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
এক পক্ষের দাবী নির্বাচনে বিএনপির পক্ষে কাজ করায় তাদের বাড়িঘরে হামলা চালিয়েছে জামায়াতে ইসলামীর সমর্থকরা। আর অপরপক্ষের দাবী বিএনপির লোকজন ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে এলাকায় অরাজকতা সৃষ্টি করছে। সোমবার সন্ধা পর্যন্ত নারীসহ ১০ জনকে আটকের কথা জানিয়েছেন পুলিশ।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শরীয়তপুরের নড়িয়ার রাজনগর জামেউল উলুম দাখিল মাদ্রাসা কেন্দ্রে বিএনপি ও জামায়াতের লোকজনের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে গত রোববার বিকেলে বিএনপির পক্ষে কাজ করা হাফিজ ভূইয়ার ছেলে সাব্বিরকে মারধর করে জামায়াতের পক্ষে কাজ করা ছোরপান কাজীর ছেলে সোহেল কাজী ও তার লোকজন। এরপর সোমবার ভোরে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে সংঘর্ষে জড়ায় উভয় পক্ষের লোকজন। এসময় অন্তত ২০ থেকে ২৫টি বসতবাড়িতে হামলা লুটপাট ও ভাঙচুর চালানো হয়। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
ভুক্তভোগী মোতালেব মাস্টার বলেন, আমি কোন দলের মধ্যে নেই। নিজেও অসুস্থ। হঠাৎ আমার বাড়ীতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর কর। হলো। কারা করলো সেটাও বুঝে উঠতে পারছিনা।
ভুক্তভোগী রেশমা ভূইয়া বলেন, ‘‘নির্বাচনের সময় আমরা বিএনপি’র সাপোর্ট করায় আমার ভাইকে ওরা রাস্তায় পেয়ে মারধর করেছে। আজ আবার বাড়ীতে এসে ভাঙচুর করল। আমি এর বিচার চাই।’’
এদিকে অভিযোগ অস্বীকার করেছে প্রতিপক্ষের লোকজন। বাবুল বেপারীর স্ত্রী ও সংরক্ষিত আসনের নারী সদস্য হাসিনা আক্তার বলেন, তারা মিথ্যা অভিযোগ করেছে। আমরা স্বামী একজন দলিল লেখক। তিনি মারামারির সময় এলাকায় ছিলেন না। তারা গতবার ঈদে আমাদের বাড়িঘরে হামলা চালিয়েছিলো।
সোহেল কাজীর ভাইয়ের বউ শারমিন বেগম বলেন, হাফিজ ভূইয়া একজন চাঁদাবাজ। তারা আগে থেকেই এলাকায় নাশকতা চালায়। আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করা হচ্ছে।
এবিষয়ে নড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) বাহার মিয়া বলেন, নির্বাচন পরবর্তী সময়ে দু’পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। বেশ কিছু ককটেল বিস্ফোরণ ঘটানো হয়েছে। আমরা খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনি। এ ঘটনায় ১০ জনকে আটক করা হয়েছে। দোষীদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে।
