বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর জানাজা ও দাফনে বাধা দেওয়া এবং তাঁকে অসম্মান করার প্রতিবাদে শরীয়তপুরে প্রতিবাদ সমাবেশ ও মানববন্ধন করেছেন বীর মুক্তিযোদ্ধারা। এতে বিএনপি থেকে নির্বাচিত জাতীয় সংসদের হুইপসহ তিনজন সংসদ সদস্য জেলা পরিষদের প্রশাসক অংশ নেন। শরীয়তপুর জেলা কমান্ড ও সদর উপজেলা কমান্ড, বাংলাদেশের মুক্তিযোদ্ধা সংসদ এ প্রতিবাদ সমাবেশ ও মানববন্ধনের আয়োজন করে।
বুধবার (৪ নভেম্বর) সকাল ১০টায় শরীয়তপুর জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবনের সামনে এ কর্মসূচি শুরু হয়। এতে অংশ নেন জাতীয় সংসদের হুইপ মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু, সংসদ সদস্য শফিকুর রহমান কিরন ও সংসদ সদস্য সাইদ আহমেদ আসলাম ও জেলা পরিষদের প্রশাসক সরদার একেএম নাসির উদ্দিন কালু।
সকাল ১০টায় শুরু হওয়া প্রতিবাদ সমাবেশ ও মানববন্ধন প্রায় এক ঘণ্টা চলে। হুইপ মিয়া নুরুদ্দিন অপুর অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে বেলা ১১টার দিকে মানববন্ধন কর্মসূচি শেষ হয়।
কর্মসূচিতে জাতীয় সংসদের হুইপ ও শরীয়তপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের অকুতোভয় বীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি তিনি গভীর শ্রদ্ধা জানান। ১৯৭১ সালে দেশমাতৃকার মুক্তির আন্দোলনে যাঁরা যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে দেশকে স্বাধীন করেছেন এবং যেসব মুক্তিযোদ্ধা দেশের স্বাধীনতার জন্য জীবন উৎসর্গ করেছেন, তাঁদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা ও আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, আজকের এই কর্মসূচিতে একজন মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্য হিসেবে তিনি উপস্থিত হয়েছেন। তাঁর পরিবারও মুক্তিযোদ্ধা পরিবার। তার সাথে সংসদ সদস্য রয়েছেন তারাও মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সন্তান। জেলা পরিষদের প্রশাসক সরদার এ কে এম নাসির উদ্দীন কালু তিনি একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সন্তান হিসেবে আমরা তাদের ঘৃণা জানাই, যারা মানিক পশারীর জানাজা ও দাফনে বাধা দিয়েছে। পাশাপাশি আজকে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের আয়োজিত মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশে একাত্মতা প্রকাশ করছি।
প্রতিবাদ সমাবেশে সদর উপজেলা চন্দ্রপুর ইউপির বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. সিরাজুল ইসলাম ইউনুস বলেন, মানিক পশারী একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার জানাজা ও দাফন-কাফন করতে বাধা দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশে একাত্তরের বীর মুক্তিযোদ্ধাদের বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্নভাবে অপমান করা হচ্ছে। এসব ঘটনার প্রতিবাদে এবং এর বিরোধিতা করেই আজ আমরা এখানে দাঁড়িয়েছি। আমাদের সঙ্গে যেসব বীর মুক্তিযোদ্ধা মানববন্ধনে অংশ নিয়েছেন, তাঁদের অনেকেই বয়সের ভারে ন্যুব্জ। তাঁরা ঠিকমতো দাঁড়িয়ে থাকতে পারেন না। তারপরও এই কষ্ট সহ্য করে তাঁরা আজ মানববন্ধনে অংশ নিয়েছেন।
আমাদের দাবি, মুক্তিযোদ্ধাদের যথাযথ সম্মান দিতে হবে। আমরা মুক্তিযোদ্ধারা যদি সম্মান পাওয়ার উপযুক্ত হই, তাহলে সম্মান চাই। আর যদি সম্মান পাওয়ার উপযুক্ত না হই, তাহলে সম্মান চাই না। আজ আমরা যে কষ্ট করে এখানে এসেছি, আমাদের কোনো আর্থিক সুবিধা বা অর্থনৈতিক প্রাপ্তির দাবি নেই। আমাদের একমাত্র দাবি, আমাদের প্রাপ্য সম্মানটুকু দিতে হবে। আমাদের সম্মানটুকু দিলেই আমরা যথেষ্ট মনে করব।
