শনিবার, ১৪ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১লা ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, রাত ১:১২
  1. অপরাধ
  2. অর্থনীতি
  3. আইন-আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. আবহাওয়া
  6. কৃষি
  7. খেলাধুলা
  8. গণমাধ্যম
  9. গোসাইরহাট
  10. চাকরি
  11. জাজিরা
  12. জাতীয়
  13. ট্যুরিজম
  14. ডামুড্যা
  15. দেশজুড়ে

জাজিরায় সরকারি জলমহাল থেকে মাটি লুট করছেন বিএনপি নেতা

নিজস্ব প্রতিবেদক, জাজিরা
জানুয়ারি ৩, ২০২৬ ৫:৩০ অপরাহ্ণ
Link Copied!

শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার রুপবাবুরহাটের সরকারি জলমহাল থেকে ড্রেজার দিয়ে অবৈধভাবে মাটি উত্তোলন করে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে জাজিরা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহবুব আলম টিটু আকনের বিরুদ্ধে।

ইউনিয়ন ভূমি অফিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত বছরের ৫ আগস্টের পর রুপবাবুরহাট জলমহাল থেকে পূর্বনাওডোবা ভূমি কর্মকর্তার মাধ্যমে খাস আদায় করছে উপজেলা প্রশাসন। তবে ভূমি অফিসে পর্যাপ্ত লোকবল না থাকায় স্থানীয়দের সহযোগীতা নিয়ে ওই খাস আদায় করা হচ্ছে। এ অবস্থায়, স্থানীয় হিসেবে জাজিরা উপজেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক মাহবুব আলম টিটু আকন গত এপ্রিল মাস থেকে অনানুষ্ঠানিক চুক্তিভিত্তিক প্রতিমাসে ভূমি অফিসে ১ লাখ টাকা জমা করবেন মর্মে ওই জলমহালের দায়িত্ব নেন। এরপর থেকে ওই জলমহাল থেকে মাছ আহরণের পাশাপাশি অবৈধ ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন করে বিক্রি করা শুরু করেন টিটু আকন। এবিষয়ে স্থানীয়দের অভিযোগের প্রেক্ষিতে গত ২৫ সেপ্টেম্বর পূর্বনাওডোবা ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা মো: আনোয়ার হোসেন সরেজমিনে তদন্ত করে জাজিরার সহকারী কমিশনার(ভূমি) কর্মকর্তার বরাবর একটি প্রতিবেদন দাখিল করেন।

ওই তদন্ত প্রতিবেদনে বিএনপি নেতা টিটু আকনসহ স্থানীয় সবুজ চৌকিদার নামে আরও এক ব্যক্তির বিরুদ্ধেও অবৈধভাবে মাটি উত্তোলন করে বিক্রির অভিযোগ আনা হয়। তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়- ‘‘তাহাদের কে নিষেধ করা স্বত্তেও অবৈধভাবে ড্রেজার দিয়ে জলমহাল হতে মাটি উত্তোলন করিতেছেন।

এমতাবস্থায়, বালু মহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা (সংশোধন) আইন ২০২৩ ইং মোতাবেক সরকারী কর্তৃপক্ষের অনুমতি ব্যতিরেকে সরকারী জলমহাল হতে অবৈধভাবে মাটি উত্তোলনের জন্য অবৈধ উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা যেতে পারে।’’

ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা বিএনপি নেতা টিটু আকনের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের পর জলমহাল থেকে বালু উত্তোলন বন্ধ করা হয়। তবে অদৃশ্য কারনে অবৈধভাবে সরকারি মাটি উত্তোলন করে বিক্রির অপরাধে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোন ধরণের আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। এতে নিয়মিত স্থানীয়দের অভিযোগের প্রেক্ষিতে প্রশাসন অবগত হলে কিছুদিন ড্রেজিং করে মাটি উত্তোলন বন্ধ রেখে আবারও শুরু করে চলেছেন টিটু আকন।

গত ২৯ ডিসেম্বর সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, জলমহালের মধ্যভাগের পূর্বপাড়ে ড্রেজার বসিয়ে পাইপের মাধ্যমে একটি বসতবাড়ি তৈরীর জন্য মাটি ভরাট করা হচ্ছে। ড্রেজার মেশিন পরিচালনা করা শ্রমিক নাঈমের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ড্রেজার মেশিন টিটু আকনের, তিনি এখান থেকে মাটি উত্তোলন করতে বলেছেন।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি জানান, টিটু আকন দীর্ঘদিন যাবৎ নিজের ড্রেজার দিয়ে মাটি উত্তোলন করে ওই এলাকার বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করে আসছে। এতে জলমহালের আশেপাশে থাকা কৃষি জমি বিলীন হওয়ার ঝুঁকিতে পড়ছে।

গত ২৯ ডিসেম্বর ড্রেজার চলাকালীন সময়ে জলমহাল এলাকায় সরেজমিনে ঘুরে আসার পর মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করেন বিএনপি নেতা টিটু আকনের ছোটভাই মিঠু আকন। তিনি অবৈধ ড্রেজার দিয়ে মাটি উত্তোলনের বিষয়ে স্বীকার করে বলেন, ‘যেখান থেকে মাটি কাটা হচ্ছে সেগুলো মালিকানা জমি। এইটা নিয়ে আগাইয়েন না। ভাই হিসেবে বললাম।’

বিষয়টি নিয়ে জানতে জাজিরা উপজেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক মাহবুব আলম টিটু আকনের মোবাইল নম্বরে একাধিকবার কল দিলেও তিনি তা রিসিভ করেননি।

এবিষয়ে জাজিরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ তাহমিদুল ইসলাম বলেন, ‘সরকারি জলমহালে ড্রেজার চালানোর কোন সুযোগ নেই। খোঁজখবর নিয়ে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

এই অয়েবসাইটে প্রতিনিধিদের কর্তৃক তথ্যপ্রাপ্তি হয়ে নিজস্ব প্রতিবেদক কর্তৃক নিউজ প্রস্তুত করে প্রকাশ করা হয়। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো। বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।
আজকের সর্বশেষ সবখবর
  • সর্বশেষ

  • আপনার এলাকার খবর খুঁজুন

    খুঁজুন
  • © 2026 All Rights Reserved | Powered by BD IT HOST
    স্বত্ব © ২০২৪-২০২৫ শরীয়তপুর টাইমস্