ঢাকাশুক্রবার , ২ জানুয়ারি ২০২৬
  1. অপরাধ
  2. অর্থনীতি
  3. আইন-আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. আবহাওয়া
  6. কৃষি
  7. খেলাধুলা
  8. গণমাধ্যম
  9. গোসাইরহাট
  10. চাকরি
  11. জাজিরা
  12. জাতীয়
  13. ট্যুরিজম
  14. ডামুড্যা
  15. দেশজুড়ে
আজকের সর্বশেষ সবখবর
  • সর্বশেষ

  • আপনার এলাকার খবর খুঁজুন

    খুঁজুন
  • ডামুড্যায় ফসলি জমি দখল করে মাছের ঘের তৈরী

    নিজস্ব প্রতিবেদক, ডামুড্যা
    জানুয়ারি ২, ২০২৬ ৬:৫৪ অপরাহ্ণ
    Link Copied!

    শরীয়তপুরের ডামুড্যায় অন্তত ১০০ কৃষকের ফসলি জমি নষ্ট করে মাছের ঘের করার অভিযোগ উঠেছে। প্রভাবশালী একটি চক্র ইতোমধ্যে সেখানে খনন যন্ত্র(এক্সেভেটর) দিয়ে জমির মাটি কেটে বাঁধ দেওয়া হয়েছে। জমি দখলে বাধা দিতে গেলে প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে চক্রটি। ফসলি জমি হারানোর শঙ্কায় ঘের বন্ধ করার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে কৃষি জমিতে চাষাবাদ করে জীবিকা নির্বাহ করে এই অঞ্চলের কৃষকরা। তাদের প্রধান ফসল ধান ও মরিচ। কয়েকশো একর জমিতে অন্তত ২০০ কৃষক পরিবার মরিচ ও আউশ ধান চাষ করেন। প্রতিবছর ওই জমিতে দশ হাজার মণ মরিচ ও পাঁচ হাজার মণ আউশ ধান উৎপাদন হয়। সম্প্রতি সেই জমিতে মাছের ঘের করার উদ্যোগ নেয় প্রভাবশালী রিপন উঝা ও লাজুক। ইতোমধ্যে তারা মাছের ঘেরের জন্য কৃষকদের ফসলি জমি দখলে নিয়ে রাতের আধারে মাটি কাটা শুরু করেছেন। জমির মাঝখানে মাটি কেটে তৈরি করা হয়েছে বিশাল বাঁধ। বিষয়টি নিয়ে সাধারণ কৃষকরা বাধা দিতে গেলে প্রতিনিয়ত মারধরের হুমকি দিয়ে চলেছেন তারা।

    দারুল আমান ইউনিয়নের কাইলারা গ্রামের লিটন চেয়ারম্যানের বাড়ীর পিছনে ও কনেশ্বর ইউনিয়নের ছৈয়াদ বোস্তা নান্নু ছৈয়ালের বাড়ীর পাশে দিনরাত সমানতালে পাচটি খনন যন্ত্র (এক্সেভেটর) দিয়ে ইতোমধ্যে ৩০ শতাংশ কাজ শেষ করে ফেলেছে চক্রটি। দ্রুত সময়ের মধ্যে বন্ধ করা না গেলে ওই এলাকার কয়েক হাজার মানুষের উৎপাদন বন্ধ হয়ে যাবে। পাশাপাশি স্থায়ী জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হবে ও বন্ধ হয়ে যাবে সবরকম কৃষি কাজ।

    ওই এলাকার স্থানীয় কৃষক আলিম উদ্দিন বেপারী বলেন, রিপন উঝা জোর করে জমির মাটি কেটে ফেলছে। আমি জমি দিবো না তাই আমাকে হুমকি দিয়ে বলে জমি না দিলে কিভাবে নিতে হয় নিয়ে যাবো। এই জমি নিয়ে গেলে আমি আর চাষাবাদ কিছুই করতে পারুম না। আমি যাতে আমার পোলাপান নিয়ে জমিটা চাষবাস করে খাইতে পারি। আপনারা সেই ব্যবস্থা করেন।

    ক্ষতিগ্রস্ত কনেশ্বরের কৃষক আমির হোসেন বলেন, আমি আমার জমিটায় মরিচ, ধান ও শাকসবজি চাষ কইরা সংসার চালাই। এই ২০ শতক জমি লাজুক দখল করে মাছের ঘের কাটতেছে। আমরা এখন কীভাবে বাঁচমু। আমি আমার জমিতে মাছের ঘের করতে দিমু না। আমি সরকারের কাছে অনুরোধ করি আমার জমি আমারে ফিরায়ে দেন।

    কালাম নামে আরও এক কৃষক বলেন, তারা রাতের আধারে জমিগুলারে দখলে নিয়ে মাটি কাটতেছে। বাধা দিলেও শুনে না। ঘেরের মাঝখানে কিছু মানুষের জমি দখল নিয়েছে। আর মাটি কেটে বাঁধ দেওয়ার ফলে অন্যসব জমিগুলায় বৃষ্টির পানি জমে যাবে। আমরা ধারদেনা কইরা ফসল করি। এখন জমিগুলাতে আর ফসল ফলানো যাবে না।

    অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত ভেকু মালিক লাজুক বলেন, জোরপূর্বক নয়। জাকে যেভাবে দরকার ম্যানেজ করছি। এই জমি গুলো লিজ নেওয়া। কৃষকরা নিজ ইচ্ছায় লিজ দিয়েছে তাই ঘের কাঁটার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। প্রশাসনের অনুমতি নিয়েছেন কি-না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, প্রশাসনের বিষয় রিপন ভাই ম্যানেজ করছে।

    এ বিষয়ে ডামুড্যা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সালাহউদ্দিন আইয়ূবী বলেন, ‘কৃষি জমির টপসয়েল কাটা বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন অনুযায়ী অপরাধ। তাছাড়া টপসয়েল কাটা হলে কৃষি জমির উর্বরতা কমে যায়। এতে ওই জমিতে ফলন হ্রাস পায়। অবৈধভাবে মাটি কাটার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

    এই অয়েবসাইটে প্রতিনিধিদের কর্তৃক তথ্যপ্রাপ্তি হয়ে নিজস্ব প্রতিবেদক কর্তৃক নিউজ প্রস্তুত করে প্রকাশ করা হয়। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো। বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।

    Design & Developed by BD IT HOST