শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার মোক্তারেরচর ইউনিয়নে কথামত নির্দিষ্ট মসজিদে ইফতার না দেওয়ায় স্বামী-স্ত্রীকে পিটিয়ে আহত করার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় আলী মিয়া বেপারী ও তার লোকজনের বিরুদ্ধে।
বৃহস্পতিবার(৫ মার্চ) বিকেলে উপজেলার মোক্তারেরচর ইউনিয়নের আলিমদ্দিন বেপারী কান্দি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
ওই ঘটনায় ভুক্তভোগী মোহাম্মদ আলী বেপারী বাদী হয়ে ৫ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা ৫/৭ জনের নামে নড়িয়া থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন।
ভুক্তভোগী ও অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, মোহাম্মদ আলী বেপারী সিদ্ধান্ত নেন তার পরিবারের পক্ষ থেকে বেপারী কান্দি মসজিদে ইফতার দিবেন। কিন্তু বিবাদী আলী মিয়া বেপারী মোহাম্মদ আলীকে বেপারী কান্দি মসজিদে না দিয়ে পেদা বাড়ীর মসজিদে ইফতার দিতে বলেন। পরে তার কথা না শুনে মোহাম্মদ আলী তার আগের সিদ্ধান্তে অটল থাকায় আলী মিয়া তার উপর ক্ষুব্ধ হয়ে তার লোকজনসহ লাঠিসোঁটা, ককটেল বোমা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে মোহাম্মদ আলীর বাড়ীতে গিয়ে তাকে ও তার স্ত্রীকে বেধড়ক মারধর করে এবং ককটেল বোমা বিস্ফোরণ ঘটিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করে। পরে মোহাম্মদ আলী ও তার পরিবারের ডাকচিৎকার শুনে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করে হাসপাতালে ভর্তি রাখেন।
আহত ভুক্তভোগী মোহাম্মদ আলী বেপারী বলেন, আলী মিয়া আমাদের বেপারী কান্দি মসজিদে ইফতার দিতে দিবোনা। পেদাগো মসজিদে দিতে বলছে। কিন্তু আমরা বেপারীগো মসজিদে ইফতার দেওয়ার জন্য সব সিদ্ধান্ত নেই তাই ওরা আমাদের বাড়ীতে এসে বোমা ফাটিয়ে, আমাদের লাঠি দিয়ে পিটিয়ে মেরে ফেলার হুমকি ধামকি দিয়ে যায়।
মোহাম্মদ আলীর আহত স্ত্রী রুবিনা বেগম বলেন, আলী মিয়া তার ছেলে শাকিলসহ আরও লোকজন নিয়ে হঠাৎ আমাদের বাড়ীতে এসে বোমা ফুটিয়ে আমাদের মারধর করে।
স্থানীয় নাসির মাদবর বলেন, গ্রামে দুইটি দল। একটি হচ্ছে বেপারী বংশের আরেকটি পেদা বংশের। পেদাদের সাথে দল করে অভিযুক্ত আলী মিয়া বেপারী গং। তারা সবসময় এলাকায় সংঘর্ষ বাধিয়ে রাখে। কয়েকদিন আগেও যৌথবাহিনী অভিযান চালিয়ে তাদের বাড়ীঘর থেকে ককটেল বোমা উদ্ধার করেছে। তাদের কথামত না চললেই মোহাম্মদ আলী ও তার স্ত্রীকে যেভাবে মারধর করেছে এমনটি সবসময় করে।
ঘটনার বিষয়ে অভিযুক্ত আলী মিয়া বেপারী মুঠোফোনে অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ইফতার নিয়ে কোন ঝামেলা নাই, ওগো সাথে আমার জমিজমা নিয়া ঝামেলা। ওগো কে মারছে তাও জানিনা।
এবিষয়ে নড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) মো: বাহার মিয়া বলেন, একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
