শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার বিলাসপুর ইউনিয়নে বসতঘরের ভেতরে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় আহত আরও এক তরুণের মৃত্যু হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) রাত নয়টার দিকে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ৩ জনে।
নিহত তরুণের নাম নয়ন মোল্লা(২০)। তিনি জাজিরা উপজেলার বিলাসপুর ইউনিয়নের মুলাই বেপারী কান্দি গ্রামের জয়নাল মোল্লার ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার ভোরে মুলাই বেপারী কান্দি গ্রামে একটি নতুন নির্মিত বসতঘরের ভেতরে ককটেল তৈরি করার সময় বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে ঘটনাস্থলেই সোহান বেপারী (৩২) নামে এক ব্যক্তি নিহত হন। পরে তার রক্তাক্ত মরদেহ পাশের সাতঘরিয়া কান্দি এলাকার একটি ফসলি জমিতে পড়ে থাকতে দেখা যায়।
বিস্ফোরণে গুরুতর আহত অবস্থায় আরও দুইজনকে ঢাকায় পাঠানো হয়। তাদের মধ্যে নবীন হোসেন ওই দিন বিকেলেই ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। অপর আহত নয়ন মোল্লাকে প্রথমে একই হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরবর্তীতে পুলিশি হেফাজতে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার রাতে তার মৃত্যু হয়।
জাজিরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) সালেহ্ আহাম্মদ বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও এক তরুণের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত মোট তিনজন নিহত হয়েছেন। মামলার অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”
নিহত তিনজন হলেন— মুলাই বেপারী কান্দি গ্রামের জয়নাল মোল্লার ছেলে নয়ন মোল্লা, চেরাগ আলী বেপারী কান্দি গ্রামের রহিম সরদারের ছেলে নবীন হোসেন এবং দেলোয়ার হোসেন বেপারীর ছেলে সোহান বেপারী।
স্থানীয় বাসিন্দা ও থানা-পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বিলাসপুর ইউনিয়নে দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় আধিপত্য ও রাজনৈতিক বিরোধকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা বিরাজ করছে। ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান কুদ্দুস বেপারী ও তার প্রতিদ্বন্দ্বী আবদুল জলিল মাদবরের মধ্যে দ্বন্দ্ব দীর্ঘদিনের। কুদ্দুস বেপারী উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি এবং আবদুল জলিল মাদবর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সদস্য।
বিস্ফোরণের ঘটনাটি চেয়ারম্যান কুদ্দুস বেপারীর বাড়ির পাশের তার এক চাচাতো ভাইয়ের ঘরে সংঘটিত হয়। নিহত ও আহতরা কুদ্দুস বেপারীর সমর্থক বলে জানিয়েছেন স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি।
এ ঘটনায় জাজিরা থানার উপপরিদর্শক আবুল কালাম বাদী হয়ে বিস্ফোরক আইনে ৫৩ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ১৫০ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। এ পর্যন্ত মামলার ঘটনায় ১১ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
ঘটনার পর গত শনিবার ও সোমবার এলাকায় পুলিশ, সেনাবাহিনী, সেনাবাহিনীর ডগ স্কোয়াড এবং পুলিশের অ্যান্টি টেররিজম বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট যৌথভাবে তল্লাশি অভিযান চালায়। দুই দিনের অভিযানে বিপুলসংখ্যক ককটেল, ককটেল তৈরির সরঞ্জাম ও ধারালো দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।
