“একের রক্ত অন্যের জীবন, রক্তই হোক আত্মার বাঁধন” এই স্লোগানকে সামনে রেখে স্বেচ্ছায় রক্তদাতাদের সংগঠন বাঁধন, শরীয়তপুর সরকারি কলেজ ইউনিট গত আট বছরে রক্তদান কার্যক্রমে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে। সংগঠনটির যাত্রা শুরুর পর থেকে ২০১৮ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত এই সময়ে মোট ২ হাজার ৭৭৮ ব্যাগ রক্ত সরবরাহ এবং ৩ হাজার ৫৪৪ জনকে বিনামূল্যে রক্তের গ্রুপ নির্ণয় করে দিয়েছে ইউনিটটি।
গত ১৪ জানুয়ারি বাঁধন শরীয়তপুর সরকারি কলেজ ইউনিটের ৮ম বর্ষপূর্তি, বার্ষিক সাধারণ সভা, দায়িত্ব হস্তান্তর ও নবীন বরন অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। কার্যকরী পরিষদ-২০২৬ এর সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন সামিয়া আফরিন এবং সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন সুদর্শন বাড়ৈ।
সংগঠন থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ২০১৮ সালে সংগঠনটি ৫৫ ব্যাগ রক্ত সরবরাহ ও ২০ জনের রক্তের গ্রুপ নির্ণয় করে। ২০১৯ সালে রক্ত সরবরাহ বেড়ে দাঁড়ায় ২০৮ ব্যাগে এবং রক্তের গ্রুপ নির্ণয় করা হয় ৬৯৮ জনের। ২০২০ সালে সর্বোচ্চ ৫০৩ ব্যাগ রক্ত সরবরাহের পাশাপাশি ৭৫০ জনকে বিনামূল্যে রক্তের গ্রুপ জানিয়ে দেওয়া হয়। ২০২১ সালে ৪৯৪ ব্যাগ রক্ত সরবরাহ এবং ৭৪৭ জনের রক্তের গ্রুপ নির্ণয় করা হয়। ২০২২ সালে সরবরাহ করা হয় ৪২৪ ব্যাগ রক্ত এবং গ্রুপ নির্ণয় করা হয় ৪৮৩ জনের। ২০২৩ সালে রক্ত সরবরাহের সংখ্যা ছিল ৩৩৫ ব্যাগ এবং গ্রুপ নির্ণয় করা হয় ২০৯ জনের। ২০২৪ সালে ৩৮০ ব্যাগ রক্ত সরবরাহের পাশাপাশি ১২২ জনের রক্তের গ্রুপ নির্ণয় করা হয়। সবশেষ ২০২৫ সালে সংগঠনটি ৩৭৯ ব্যাগ রক্ত সরবরাহ এবং ৩৩৫ জনের বিনামূল্যে রক্তের গ্রুপ নির্ণয় করে।
সংগঠনটির নেতৃবৃন্দ জানায়, সম্পূর্ণ স্বেচ্ছাশ্রম ও শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণের মাধ্যমে এই কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। কোনো অসহায় রোগী যেন রক্তের অভাবে জীবন হারাতে না হয়—এই লক্ষ্যেই বাঁধন কাজ করে যাচ্ছে।
সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ডে বাঁধন, শরীয়তপুর সরকারি কলেজ ইউনিটের এই অবদান স্থানীয়ভাবে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে। ভবিষ্যতেও রক্তদান ও জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম আরও জোরদার করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন সংগঠনটির সদস্যরা।
