শরীয়তপুরের জাজিরা ঈদের দিন ঘুমন্ত স্বামীকে ছুরিকাঘাত করে গুরুতর আহত করার অভিযোগে স্ত্রীসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। চাঞ্চল্যকর এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৮ মে) দুপুরে উপজেলার পালেরচর ইউনিয়নের কিনাই সিকদারের কান্দি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। আহত উজ্জ্বল সিকদার (৩০) ঐ এলাকার আমির সিকদারের ছেলে। গুরুতর আহত অবস্থায় তিনি বর্তমানে ঢাকায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় চার বছর আগে ভালোবেসে বিথী আক্তারকে বিয়ে করেন উজ্জ্বল সিকদার। তাদের সংসারে দুই বছর বয়সী একটি ছেলে সন্তান রয়েছে। তবে দাম্পত্য কলহ ও পারিবারিক বিরোধের কারণে প্রায় এক বছর আগে তাদের বিবাহবিচ্ছেদ হয়।
বিচ্ছেদের পরও দুই পরিবারের মধ্যে বিরোধ থেমে থাকেনি। স্থানীয়দের দাবি, একপর্যায়ে উজ্জ্বল সিকদার তার সাবেক শ্বশুরকে মারধর করে আহত করেন এবং বিথী আক্তারকে বাবার বাড়ি থেকে নিজের কাছে নিয়ে আসেন। পরে পারিবারিক সমঝোতার মাধ্যমে তারা আবার একসঙ্গে বসবাস শুরু করেন এবং পুনরায় সংসার জীবন চালিয়ে যেতে থাকেন। কিন্তু উভয় পরিবারের মধ্যে পূর্বের বিরোধ ও পারিবারিক দ্বন্দ্ব অব্যাহত ছিল।
জানা যায়, ঈদের দিন দুপুরে উজ্জ্বল সিকদার নিজ ঘরে ঘুমিয়ে ছিলেন। এ সময় পরিবারের সদস্য ও আশপাশের অধিকাংশ মানুষ কোরবানির পশু জবাই এবং মাংস কাটার কাজে ব্যস্ত ছিলেন। সেই সুযোগে তার স্ত্রী বিথী আক্তার ধারালো ছুরি দিয়ে উজ্জ্বলের পেটে আঘাত করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে তার পেট ফেটে নাড়িভুঁড়ি বের হয়ে যায়।
উজ্জ্বলের চিৎকার শুনে স্বজন ও প্রতিবেশীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। পরে তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে জাজিরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে অবস্থার অবনতি হওয়ায় কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন।
ঘটনার পরপরই বিথী আক্তার কৌশলে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন বলে স্থানীয়রা জানান। পরে গতকাল বিকেলে বিথী আক্তার এবং তার দুই চাচাতো ভাই জুলহাস ও তুহিন জাজিরা থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করতে গেলে পুলিশ তাদের আটক করে। পরবর্তীতে মামলার এজাহারভুক্ত আসামি হিসেবে তিনজনকেই গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
দীর্ঘদিনের পারিবারিক বিরোধ, বিবাহ বিচ্ছেদ-পরবর্তী দ্বন্দ্ব এবং দুই পরিবারের মধ্যে চলমান উত্তেজনার জের ধরেই এ ঘটনা ঘটেছে।
এ বিষয়ে জাজিরা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সালেহ্ আহম্মদ বলেন, “এ ঘটনায় একটি মামলা হয়েছে। মামলার এজাহারভুক্ত আসামি বিথী আক্তারসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
