শরীয়তপুরের নড়িয়ার মোক্তারেরচর এলাকায় অবস্থিত মেসার্স মক্কা ব্রিকস ফিল্ড নামে একটি অবৈধ ইটভাটায় অভিযান চালিয়ে ভাটার স্থাপণা উচ্ছেদ ও অর্থদণ্ড করেছে জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত।
সোমবার(১৩ এপ্রিল) বেলা ১২টার দিকে ওই অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে ভ্রাম্যমাণ আদালতের নেতৃত্ব দেন জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মেহেদী হাসান পলাশ এবং জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক রাসেল নোমান।
ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্র জানায়, ২০২৪ সালের জুনে মেসার্স মক্কা ব্রিকস ফিল্ড ইটভাটাটি আইনানুগভাবে পরিচালিত না হওয়ায় এবং পরিবেশসহ অন্যান্য আইনী বৈধতার অনুমোদন না থাকায় জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে চিঠির মাধ্যমে ভাটার সকল কার্যক্রম বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয়া হয়। এরপরও প্রায় দুই বছর যাবৎ ইটভাটাটি অবৈধভাবে পরিচালনা করা হচ্ছিল। একারনে সোমবার অভিযান চালিয়ে ভাটার স্থাপণা উচ্ছেদ করা হয় এবং পরিবেশ ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইনে ভাটার মালিককে ৩ লাখ টাকা জড়িমানা আরোপ ও আদায় করা হয়।
এদিকে ২০২৪ সালে অবৈধ ইটভাটা উচ্ছেদের দাবিতে উচ্চ আদালতে একটি রিট দায়ের করা হলে আদালত উচ্ছেদের নির্দেশ দেন। এরপর শরীয়তপুরে গতবছর থেকে এপর্যন্ত উচ্ছেদ করা হয়েছে ৪টি অবৈধ ইটভাটা। সর্বশেষ নড়িয়ার মোক্তারেরচর এলাকার মক্কা ব্রিকস ফিল্ড ইটভাটাটির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হলো। জেলায় বর্তমানে ৬টি উপজেলায় মোট ৩৫টি ইটভাটা রয়েছে। যার মধ্যে প্রায় সবকয়টিই অবৈধভাবে পরিচালনা করা হচ্ছে।
জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের তথ্যানুযায়ী, শরীয়তপুরের ৬টি উপজেলার মধ্যে- শরীয়তপুর সদর উপজেলায় ১৩টি, জাজিরা উপজেলায় ৫টি, নড়িয়া উপজেলায় ৬টি, গোসাইরহাট উপজেলায় ৬টি, ভেদরগঞ্জ উপজেলায় ৩টি এবং ডামুড্যা উপজেলায় ২টি ইটভাটা রয়েছে। এরমধ্যে সদর উপজেলায় ১টি ইটভাটার পরিবেশের ছাড়পত্র থাকলেও নেই অন্যান্য অনুমোদন, ডামুড্যা উপজেলায় ২টি ইটভাটার দুটিতেই পরিবেশের নবায়ন থাকলেও নেই অন্যান্য অনুমোদনের নবায়ন এবং গোসাইরহাটে ১টি ইটভাটার পরিবেশের নবায়ন থাকলেও নেই অন্যান্য হালনাগাদ অনুমোদন।
জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক রাসেল নোমান বলেন, জেলা প্রশাসকের নির্দেশে জেলার সকল অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে এমন অভিযান অব্যহত থাকবে।
ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মেহেদী হাসান পলাশ বলেন, ‘‘মক্কা ব্রিকস ফিল্ড ইটভাটাটি অবৈধভাবে পরিচালনার কারনে এ অভিযান চালানো হয়েছে।
অভিযানের সময় সহযোগীতায় ছিল জেলা পুলিশের একটি দল, ফায়ার সার্ভিস ও বিদ্যুৎ অফিসের কর্মীরা।
