ঢাকাশুক্রবার , ১৯ জুন ২০২৬
  1. অপরাধ
  2. অর্থনীতি
  3. আইন-আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. আবহাওয়া
  6. কৃষি
  7. খেলাধুলা
  8. গণমাধ্যম
  9. গোসাইরহাট
  10. চাকরি
  11. জাজিরা
  12. জাতীয়
  13. ট্যুরিজম
  14. ডামুড্যা
  15. দেশজুড়ে
আজকের সর্বশেষ সবখবর
  • সর্বশেষ

  • আপনার এলাকার খবর খুঁজুন

    খুঁজুন
  • ১৮ বছর শেকলবন্দী নড়িয়ার শুকুম, চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের দাবি স্থানীয়দের

    নিজস্ব প্রতিবেদক, নড়িয়া
    জুন ১৯, ২০২৬ ৩:২৯ অপরাহ্ণ
    Link Copied!

    শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার ডিঙ্গামানিক ইউনিয়নের জালিয়া হাটি গ্রামের বাসিন্দা শুকুমের(৫০) জীবনের ১৮ বছর কেটে গেছে শেকলবন্দী অবস্থায়। পরিবারের দাবি, হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থেকে নিরাপত্তার স্বার্থে তাঁকে শেকল দিয়ে আটকে রাখা হয়েছে। তবে দীর্ঘদিনের এই বন্দিত্বে তাঁর শারীরিক সক্ষমতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। স্থানীয়দের মতে, শেকল নয়, প্রয়োজন ছিল যথাযথ চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা।

    পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জন্ম থেকেই বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী শুকুম একসময় পরিবারের অন্য সদস্যদের মতো কৃষিকাজ করতেন। বাবা ও ভাইদের সঙ্গে মাঠে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করতেন তিনি। কিন্তু ২০০৯ সালে হঠাৎ নিখোঁজ হয়ে যান। দীর্ঘ এক বছর পর ঢাকার কেরানীগঞ্জ এলাকা থেকে অসুস্থ অবস্থায় তাঁর সন্ধান পায় পরিবার।

    পরিবার জানায়, চিকিৎসা শেষে বাড়িতে ফিরলেও পুনরায় হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় তাঁর পায়ে শেকল পরিয়ে রাখা শুরু হয়। এরপর থেকে দিনের বেলায় বাড়ির সামনের একটি ছাপরা ঘরে এবং রাতে নিজ কক্ষে রাখা হয় তাঁকে। এভাবেই কেটে গেছে প্রায় ১৮ বছর।

    দীর্ঘদিন শেকলবন্দী অবস্থায় থাকার কারণে শুকুম বাম পা প্রায় অবশ হয়ে গেছে। বর্তমানে তিনি স্বাভাবিকভাবে হাঁটাচলা করতেও পারেন না। একসময় মাঠে কাজ করা মানুষটি এখন চলাফেরার শক্তিও হারিয়ে ফেলেছেন।

    শুকুমের মেঝোভাই ভাই লোকমান চৌকিদার বলেন, “আমার ভাই ছোটবেলা থেকেই প্রতিবন্ধী। বাবা-মা মারা যাওয়ার আগে তাকে দেখাশোনার দায়িত্ব আমার ওপর দিয়ে গেছেন। এর আগে দুইবার হারিয়ে যাওয়ায় ভয় থেকেই তাকে শেকল দিয়ে বেঁধে রাখা হয়েছে। আমরা গরিব মানুষ, উন্নত চিকিৎসা করানোর সামর্থ্য নেই।”

    স্থানীয় বাসিন্দা আলীম বলেন, “আগে শুকুম ভাই স্বাভাবিকভাবে হাঁটাচলা করতে পারতেন। কিন্তু প্রায় ১৬ থেকে ১৮ বছর ধরে তাকে শেকল দিয়ে বেঁধে রাখা হয়েছে। বিষয়টি আমাদের কাছে খুবই কষ্টদায়ক লাগে।”

    এ বিষয়ে নড়িয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা(ইউএনও) আব্দুল কাইয়ুম খান বলেন, “গণমাধ্যমের মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পেরেছি। আমরা দ্রুত শুকুমের চিকিৎসার ব্যবস্থা করব। প্রথমে তাকে নড়িয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হবে এবং প্রয়োজনীয় রেফারেন্সের মাধ্যমে উন্নত চিকিৎসার জন্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে পাঠানো হবে।”

    স্থানীয় সচেতন ব্যক্তিদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে শেকলবন্দী অবস্থায় থাকা শুকুম আলীর জন্য মানবিক সহায়তা, মানসিক স্বাস্থ্যসেবা, পুনর্বাসন এবং সরকারি পৃষ্ঠপোষকতার ব্যবস্থা করা জরুরি। তাদের মতে, চিকিৎসা ও পরিচর্যার অভাবে একজন মানুষকে বছরের পর বছর শেকলে আটকে রাখা কোনো সমাধান হতে পারে না।

    এই অয়েবসাইটে প্রতিনিধিদের কর্তৃক তথ্যপ্রাপ্তি হয়ে নিজস্ব প্রতিবেদক কর্তৃক নিউজ প্রস্তুত করে প্রকাশ করা হয়। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো। বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।

    Design & Developed by BD IT HOST