শরীয়তপুরে ৯ বছরের এক কন্যা শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। পরে তা মিমাংসার কথা বলে অভিযুক্তকে পালাতে সহযোগীতার অভিযোগ উঠেছে এলাকার কয়েকজন সালিশের বিরুদ্ধে।
গত বুধবার(১৫ জুলাই) দুপুরে শরীয়তপুর পৌরসভার ৬ নং ওয়ার্ডের হুগলি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ ও পালং থানা সূত্রে জানা যায়, গত ১৫ জুলাই দুপুরে ভুক্তভোগী শিশু বাড়ীর টিউবওয়েলে গোসল করতে গেলে স্থানীয় ফরহাদ মোল্লার ছেলে রানা মোল্লা(১৮) ওই শিশুর মুখ চেপে ধরে বায়ুপথে ধর্ষণ করে। পরে শিশুটি চিৎকার করলে আশেপাশের লোকজন এসে রানা মোল্লাকে আটক করে এবং শিশুটিকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিয়ে যায়। পরবর্তিতে আটক হওয়া অভিযুক্ত রানা মোল্লা জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে শিশুটিকে ধর্ষণের কথা স্বীকার করে।
ঘটনার পর ভুক্তভোগী শিশুর পরিবার থানায় অভিযোগ করতে যেতে চাইলে স্থানীয় মজিবর মোল্লা, মোখলেস মোল্লা, লুৎফর ঢালীসহ কয়েকজন সালিশ হিসেবে মিমাংসা করার আশ্বাস দেয়। পরে আটক হওয়া অভিযুক্ত রানা মোল্লাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। বর্তমানে রানা পলাতক রয়েছে।
ঘটনার দুদিন পর কোন সুরাহা না পেয়ে ভুক্তভোগীর পরিবার শুক্রবার(১৭ জুলাই) সকালে পালং মডেল থানায় অভিযোগ করতে গেলে সেখানে তাদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষমান রাখা হয় বলে অভিযোগ করেন ধর্ষণের শিকার শিশুর মা।
ভুক্তভোগী শিশুর মা বলেন, আমার মেয়েকে রানা ধর্ষণ করছে তা স্বীকার করছে। এরপর ছেলের পক্ষ নিয়ে স্থানীয় মজিবর মোল্লা, মোখলেস মোল্লা ও লুৎফর উকিল মিমাংসা করার কথা বলে আমাদের থানায় যেতে দেয়নি। পরে আমরা থানায় যাওয়ার পর পুলিশ অভিযোগ নিতে চায়নি। অনেক জোরাজুরির পর অভিযোগ নেয়। এরপর আমাকে ও আমার মেয়েকে একটা রুমে অনেক সময় পর্যন্ত আটকে রাখে। এতে আমার মেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ায় তারা হাসপাতালে নিয়ে যায়। এখন আমার মেয়ের চিকিৎসা ঠিকমত হচ্ছেনা। তিনি বলেন, আমি অপরাধীর বিচার চাই।
এবিষয়ে জানতে চাইলে স্থানীয় মজিবর মোল্লা ও লুৎফর ঢালীর সাথে যোগাযোগ করলে তারা মিমাংসার বিষয়টি অস্বীকার করেন। লুৎফর ঢালী বলেন, ‘আমার কাছে বলার পর আমি বলেছি এটি প্রশাসনের কাজ। এবিষয়ে আমার কিছু করার নাই।’
অন্যদিকে মোখলেস মোল্লার সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।
বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) শাহ আলম বলেন, ‘‘ভুক্তভোগীর পরিবার থানায় আসার পর সাথে সাথে মামলা গ্রহণ করা হয়েছে এবং হাসপাতালে নিয়ে ভুক্তভোগী শিশুটির পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে আদালতে তার জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়েছে।
দীর্ঘসময় ভুক্তভোগী ও তার পরিবারের লোকজনকে অপেক্ষমাণ রাখার অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ওসি শাহ আলম বলেন, বন্ধের দিন হওয়ায় থানার কম্পিউটার অপারেটর ছিলনা। তাই একটু সময় বেশী লেগেছে।
