ঢাকাবুধবার , ১ জুলাই ২০২৬
  1. অপরাধ
  2. অর্থনীতি
  3. আইন-আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. আবহাওয়া
  6. কৃষি
  7. খেলাধুলা
  8. গণমাধ্যম
  9. গোসাইরহাট
  10. চাকরি
  11. জাজিরা
  12. জাতীয়
  13. ট্যুরিজম
  14. ডামুড্যা
  15. দেশজুড়ে
আজকের সর্বশেষ সবখবর
  • সর্বশেষ

  • আপনার এলাকার খবর খুঁজুন

    খুঁজুন
  • ঘুষ নিলেন ৪০ হাজার, দুই বছরেও মিলেনি নামজারি; ভেদরগঞ্জ ভূমি অফিস সহকারীর বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ

    নিজস্ব প্রতিবেদক, ভেদরগঞ্জ
    জুলাই ১, ২০২৬ ১২:৩৩ পূর্বাহ্ণ
    Link Copied!

    শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলায় জমি নামজারির কথা বলে উপজেলা ভূমি অফিসের অফিস সহকারী তোফাজ্জেল হোসেনের বিরুদ্ধে এক সেবাপ্রার্থীর নিকট থেকে ৪০ হাজার টাকা ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ঘুষ নিয়েও জমি নামজারি করে না দেওয়ায় জমি হারানোর ভয় ও অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটছে সেবাপ্রার্থী বাবুল হোসেনের। ওই ঘুষ লেনদেন সংক্রান্ত একাধিক কল রেকর্ড এই প্রতিবেদকের হাতে এসেছে।

    ভূক্তভোগী সূত্রে জানা যায়, সৌদি আরব প্রবাসী বাবুল হোসেন ২০০৪ সালে ভেদরগঞ্জ উপজেলার ছয়গাঁও ইউনিয়নের লাকার্তা মৌজার ৭৫ নং খতিয়ানের ১১২ নং দাগের ২৪ শতাংশ জমি বৃদ্ধ আলেয়া রহমান কাছ থেকে ক্রয় করেন। কিন্তু পরবর্তীতে সরকারি জরিপে ভূলক্রমে ওই জমি বৃদ্ধ আলেয়া রহমানের নামেই মিউটেশন হয়ে যায়। পরবর্তীতে আলেয়া রহমান নিজের নামে হওয়া মিউটেশন (নামজারি) বাতিল করে বাবুল হোসেনকে ফিরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। এরপর তিনি জমির ক্রেতা প্রবাসী বাবুল হোসেনের পরিবারের লোকজনের সাথে যোগাযোগ করেন তিনি।  বাবুল হোসেন প্রবাসী হওয়ায় ওই জমি বাবুল হোসেনের নামে মিউটেশন করানোর জন্য আবেদন করেন তার ভাই খোরশেদ আলম। আবেদন করার পরে দীর্ঘদিন ভূমি অফিসে ঘুরেও জমি মিউটেশন করাতে পারেননি খোরশেদ আলম। পরে ভেদরগঞ্জ উপজেলা ভূমি অফিসের অফিস সহকারী তোফাজ্জেল হোসেন ভূক্তভোগী বাবুল হোসেনের ভাই খোরশেদ আলমের কাছে ৫০ হাজার টাকা দাবি করেন। সর্বশেষ ২০২৪ সালের মে মাসের ৫ তারিখে খোরশেদ আলম ও জমি দাতা বৃদ্ধ আলেয়া রহমানের ছেলে স্কুল শিক্ষক আনিসুর রহমান মিলে অফিস সহকারী তোফাজ্জল হোসেনকে ৪০ হাজার টাকা ঘুষ প্রদান করেন। এরপর দীর্ঘ ২ বছর কেটে গেলেও তোফাজ্জেল হোসেন জমি মিউটেশনের ব্যবস্থা করে দেননি। ভুক্তভোগী অফিসে আসলে দেই দিচ্ছি বলে আর দিচ্ছে না। এমনকি স্থানীয়রা মিলে মিমাংসা করে টাকা ফেরত দেওয়ার জন্য বললেও তোফাজ্জেল টাকা ফেরত দেয়নি। শুধু বাবুল হোসেন, খোরশেদ আলম নয় এধরণের ভুক্তভোগীর সংখ্যা অনেক। অভিযোগ রয়েছে ঘুষের বিনিময়ে অবৈধ বালু উত্তোলন, কৃষি জমিতে পুকুর খনন, সরকারি খাস জমিতে স্থাপনা নির্মাণ ,পুকুর ভরাট সহ বিভিন্ন অবৈধ কাজে প্রশাসনের নাম ভাঙ্গিয়ে  টাকা আদায় করেন অফিস সহকারী তোফাজ্জল হোসেন।

    এবিষয়ে কথা হয় জমিদাতা বৃদ্ধ আলেয়া রহমান(৭০) সাথে। তিনি বলেন, আমার বয়স হয়েছে। আল্লাহ কখন আমাকে ডাক দেন জানি না। বাবুলের কাছে জমি বিক্রি করে আমি টাকা নিয়েছি। যদি জমি তাকে বুঝিয়ে দিতে না পারি, তাহলে তো আমি পরকালে আল্লাহর কাছে জবাব দিতে পারব না। এই বৃদ্ধ বয়সে এসে ভূমি অফিসের এমন হয়রানির শিকার হবো, এটা আমি কল্পনাও করিনি। সারা জীবন শুনে এসেছি, ভূমি অফিসে ঘুষ ছাড়া কাজ হয় না। পরকালের কথা ভেবে ঘুষ দিয়েও আমার জমি আমি ক্রেতাকে বুঝিয়ে দিতে পারছি না। এই কষ্টের কথা কাকে বলব?

    সখিপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা সবুজ মিয়া বলেন, তোফাজ্জল হোসেনকে টাকা দিলে ছেঁড়া দলিলেও কাজ হয়। আর টাকা না দিলে কাগজপত্র নিয়ে আলমারিতে তুলে রাখা হয় মাসের পর মাস। এখানে ঘুষ নিয়ে কাজ করা একদম ওপেন সিক্রেট ব্যাপার। শুধু তাই নয়, চাহিদা মাফিক টাকার মধ্যে কম টাকা পরিশোধ করা হলেও ঘোরানো হয়, হয়রানি করা হয়। আমাদের এলাকার বেশিরভাগ মানুষের নামজারি সম্পর্কে ধারণা নেই। কাগজপত্র নিয়ে এলে অফিসে ঘুরাঘুরি করে। বলে এটা নেই, ওটা নেই। যখন তাদের সাথে কন্টাক্ট করি তখন আর কিছুই লাগে না। আমি কিছুদিন আগে নামজারি করানোর জন্য দুই মাস ঘুরে ৮ হাজার টাকা দিয়ে পরে করে দিছে তোফাজ্জল ভাই।

    ভূক্তভোগী প্রবাসী বাবুল হোসেন বলেন, ২০০৪ সালে জমিটা ক্রয় করি এবং সাবরেজিস্টারের মাধ্যমে দলিল হয়। আমি যেহেতু প্রবাসে থাকি সেহেতু পরে আর খোঁজ নেওয়া হয়নি রেকর্ড কার নামে হয়েছে। পরবর্তীতে জানতে পারি এই জমির রেকর্ড সাবেক মালিক আলেয়া রহমানের নামে হয়। এরপর আলেয়া রহমান আমাকে তার নামে হওয়ার মিউটেশন বাতিল করে আমাকে দিয়ে দেওয়া কথা বলেন। আমি প্রবাসে থাকায় আমার ভাই খোরশেদ আলমকে আবেদন করতে বলি। পরে খোরশেদ আলম আবেদন করলে এটা নিয়ে ভূমি অফিস নানানভাবে টালবাহানা করে। একপর্যায়ে ওই অফিসের সহকারী তোফাজ্জল হোসেনকে ৪০ হাজার টাকার বিনিময়ে কন্টাক্টে দিয়ে দেই। কিন্তু টাকা দেওয়ার পরেও তিনি আমাদের কাজ না করে ২ বছর ধরে আমাদের ঘুরাঘুরি করছে। এরপর বলছে টাকা ফেরত দিয়ে দিবে তাও দিচ্ছে না। এখন কাজও হচ্ছে না টাকাও দিচ্ছে না। আমি এটার সঠিক বিচার দাবি করছি।

    ভূক্তভোগী প্রবাসী বাবুলের ভাই খোরশেদ আলম বলেন, আমার ভাই আমাকে ফোন করে বললো জমি মিউটেশন করাতে আমাকে যেতে হবে। আমি জমির সাবেক মালিক আলেয়া রহমানের ছেলে আনিসুর রহমানকে সাথে নিয়ে ভেদরগঞ্জ উপজেলা ভূমি অফিসে যাই। সেখানে কাগজপত্র দেখালে আমাদের বিভিন্ন কাগজপত্র সমস্যার কথা বলা হয়। পরে কয়েকদিন ঘুরে আবারও ওই অফিসে যাই। সেখানে অফিস সহকারী তোফাজ্জল ভাই আমাদের কাজ করে দেওয়ার প্রস্তাব দেয়। আমি তাকে জিজ্ঞেস করি আমাদের কি করতে হবে। তোফাজ্জল ভাই বলেন ৫০ হাজার টাকা দিবেন আপনাদের কিছুই করতে হবে না।আমি সবকিছু করে একমাসের মধ্যে আপনাদের হাতে মিউটেশনের কাগজ পৌঁছে দিবো। তখন হয়রানির ভয়ে ৪০ হাজার টাকার বিনিময়ে চুক্তি হয়। এবং পরদিন তাকে ৪০ হাজার টাকা বুঝিয়ে দেওয়া হয়। এরপর একমাস-দুমাস করে দীর্ঘ সময় হলেও তিনি কাজটি করতে পারেনা না। পরে স্থানীয় কয়েকজনের মাধ্যমে টাকা ফেরত দেওয়ার কথা বললেও তিনি টাকা ফেরত দিচ্ছে না কাজও করে দিচ্ছে না।

    এবিষয়ে অফিস সহকারী তোফাজ্জল হোসেন বলেন, প্রতিদিন শত-শত মানুষ আসে অফিসে কাজের জন্য। কখন কে আবেদন নিয়ে আসে সেটা আমার দেখার বিষয় নয়। টাকা পয়সার বিষয়ে আমি কিছু জানিনা। যদি প্রমাণ থাকে নিউজ করে দেন। ভিডিও থাকলে আপনি আমার স্যারের সাথে কথা বলেন। ঘুষ লেনদেনের ফোন রেকর্ড ও হোয়াটসঅ্যাপে কথাবার্তার প্রমাণ আছে আমাদের হাতে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আপনি সন্ধ্যার পরে একটু যোগাযোগ করেন এবং যদি আমার ভুল হয়ে থাকে আমি ওই ভুক্তভোগীর কাজটা করে দিবো আমাকে সপ্তাহখানেক সময় দিতে হবে।

    উপজেলা সহকারী কমিশনার(ভূমি) কে.এম রাফসান রাব্বি বলেন, আমার অফিস সবার জন্য উন্মুক্ত। দালালের কাছে না গিয়ে আমার কাছে সরাসরি এলেই তো হয়। যেহেতু ঘটনাটি দু’বছর আগের এখানে আমার আগে আরও দু’জন কর্মকর্তা ছিলেন। ভুক্তভোগী পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পাই নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

    এই অয়েবসাইটে প্রতিনিধিদের কর্তৃক তথ্যপ্রাপ্তি হয়ে নিজস্ব প্রতিবেদক কর্তৃক নিউজ প্রস্তুত করে প্রকাশ করা হয়। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো। বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।

    Design & Developed by BD IT HOST