শরীয়তপুরের আংগারীয়া এলাকায় কৃষকের জমি দখলে নিয়ে মাছের ঘের তৈরির অভিযোগ উঠেছে এক যুবদল নেতার বিরুদ্ধে। একইসঙ্গে জমি দিতে রাজি না হওয়ায় তিনি কয়েকজন কৃষককে হুমকি ধামকি দিচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন কৃষকরা।
অভিযুক্ত যুবদল নেতা রোকন সরদার জেলার সদর উপজেলা যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক ইউপি সদস্য। দলীয় প্রভাব খাটিয়ে তিনি জমি দখলে নেন বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। এ নিয়ে জেলা প্রশাসকের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন ভুক্তভোগী কৃষকরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার আংগারিয়া ইউনিয়নের সিংগাইর গ্রামের ফুটবল মাঠের বিলে প্রায় ৫০ একর তিন ফসলি জমিতে ভেকু মেশিন দিয়ে ৮-১০ ফুট গভীর করে জমির চারদিকে বাধ দিয়ে পুকুর খননের মহোৎসব চলছে। দিনরাত বিরতিহীনভাবে ১০-১২ ভেকু মেশিন দিয়ে চলছে এই পুকুর খননের কাজ। কৃষকরা না বুঝে হারাচ্ছেন তাদের উর্বর ফসলি জমি, অন্যদিকে আঙুল ফুলে কলাগাছ হচ্ছে এক শ্রেণির প্রভাবশালী পুকুর ব্যবসায়ীর। শ্রেণিভেদে উপজেলার প্রায় সকল জমিতেই সারা বছর ধান,পাট,মরিচ সহ কোনো না কোনো ধরনের ফসল হয়। সম্প্রতি যুবদল নেতা রোকন সরদার ও তার লোকজন মাছের ঘের তৈরি করতে দলীয় প্রভাব খাটিয়ে সেই এলাকার ৫০ একর ফসলি জমি দখলে নেন। তারা জমির চারপাশ এক্সাভেটরের সাহায্যে খনন করা শুরু করেছেন। ইতিমধ্যেই ফসলি জমির চারপাশ খনন করে ঘের তৈরির প্রস্তুতি চলছে। ঘেরের মাঝখানে থাকা জমির ধানগাছ অপসারণ করা হয়েছে।
স্থানীয় কৃষক রফিক মিয়া বলেন, ‘ঘের প্রকল্পের মাঝখানে আমার আধা কানি জমি পড়েছে। অনেক কষ্ট করে জমিতে ধান রোপণ করেছি। মাছের ঘেরে জমি দেইনি বলে রোকন সরদার ও তার লোকজন জোর করে মাটি কেটে আমাদের জমিতে পুকুর খনন করছে। আমরা ফসল করে খেতে চাই, মাছের ঘের করতে চাই না। যারা এই কাজ করেছে তাদের বিচার চাই।’
কৃষক ওমর ফারুক বলেন, ‘ধারদেনা কইরা ধান লাগাইছি। এই জমির ধান দিয়াই আমরা সারা বছর চলি। সেই জমিতে জোর করে ঘের বানাচ্ছে। আমরা জমি দেই নাই বলে রোকন সরদার আমাদের হুমকি-ধামকি দিচ্ছে। আমরা আমাদের জমিতে ঘের করতে দিব না।’
মিলন মিয়া নামে এক ভুক্তভোগী বলেন, “এই ঘেরের পাশে আমার কৃষি জমি। এখানে বাঁধ দিলে আমাদের জমি গুলো সারাবছর পানি আটকে থাকবে এতে আমাদের কৃষি কাজে বাঁধা সৃষ্টি হবে। আমরা একাধিকবার তাদের বলেছি কিন্তু আমাদের কথা শুনে না। আমাদের ভয় দেখিয়ে বলে কৃষি কাজ না করতে পারলে জমি আমাদের দিয়ে দাও। আমরা পুকুর খনন করি পাশাপাশি কিছু টাকা দিয়ে দেই। আজ না দিলেও আগামীতে না দিয়ে উপায় নেই। যদি ভালো মনে করো এবার আমাদের জমি দিলে বেশি টাকা পাবে পরে দিলে ফ্রীতেও নিবো না। আমরা এই জমি দিতে চাই না আমরা চাই কৃষি কাজ করে খেতে চাই। এতোটুকু জমি দিয়ে দিলে কি করে খাবো? আমি প্রশাসনের সহযোগিতা চাই।”
এ বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত যুবদল নেতা রোকন সরদারের মুঠোফোনে ফোন করা হলে বন্ধ পাওয়া যায়। পরে বাড়িতে গিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক তাহসিনা বেগম বলেন, ‘যে অভিযোগটি পেয়েছি সেটি অত্যন্ত গুরুতর। এ বিষয়ে আমরা প্রশাসনিকভাবে যা যা ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব সর্বাত্মক ব্যবস্থা নেবো। এখানে দুষ্কৃতকারী যারা রয়েছে, যারা এর জন্য দায়ী তাদের ব্যাপারে আমরা সর্বোচ্চ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেবো।’
