শরীয়তপুরের নড়িয়ায় তালাবদ্ধ একটি বসতঘরে আগুন দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে প্রতিবেশীর বিরুদ্ধে। এতে ঘরের আসবাবপত্রসহ প্রায় ৯ লাখ ৫০ হাজার টাকার মালামাল পুড়ে গেছে বলে দাবি করেছে ভুক্তভোগী পরিবার। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী সোনিয়া আফরোজ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে গেল তা পুলিশ গ্রহণ করেননি বলে অভিযোগ করেছেন। পরে তিনি ৫ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত ১০/১২ জনের নামে আদালতে মামলা দায়ের করেছেন।
পুলিশ ও মামলা সূত্রে জানা যায়, সোনিয়া আফরোজের মায়ের নামে উপজেলার পাচক এলাকায় ২৫ শতাংশ জায়গা রয়েছে। ওই জায়গার একাংশে একটি চৌচালা টিনের বসতঘর ছিল। জায়গাটি নিয়ে প্রতিবেশী রাজিয়া বেগমের সাথে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। রাজিয়া বেগম সেখানকার ১৪ শতাংশ জায়গা জোরপূর্বক দখলে নিয়ে দেয়াল তুলে দেয়। এ নিয়ে আদালতে দেওয়ানি ও উচ্ছেদ মামলা চলমান রয়েছে।
সোনিয়া আফরোজের দাবি, গত প্রায় ১৩ মাস ধরে তিনি তার মা’কে নিয়ে বাড়িতে না থেকে শরীয়তপুর সদর এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করছেন। এ সময় বসতঘরটি তালাবদ্ধ ছিল। গত ২৩ সেপ্টেম্বর রাত আনুমানিক ১টা ৫০ মিনিটের দিকে কয়েকজন লোক ওই তালাবদ্ধ বসতঘরে আগুন ধরিয়ে দেয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। আগুনে ঘরের ভেতরে থাকা তিনটি সেগুন কাঠের খাট, একটি ড্রেসিং টেবিল, একটি পানির মোটর, দুটি সিলিং ফ্যান, একটি জিএমএস ড্রপ, একটি সোফাসেটসহ অন্যান্য আসবাবপত্র পুড়ে যায়। এতে প্রায় ৯ লাখ ৫০ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবী তার। পরে স্থানীয়রা আগুন দেখতে পেয়ে ফায়ার সার্ভিসে খবর দেন। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।
ভুক্তভোগী সোনিয়া আফরোজ বলেন, রাজিয়া বেগমের মেয়ে জামাই পুলিশের উর্ধতন কর্মকর্তা হওয়ায় পুলিশ তাদের মামলা নিতে গড়িমসি করেছে এবং কোন ধরনের আইনী সহায়তা করেনি। পরে তিনি আদালতে মামলা দায়ের করেছেন। তিনি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে অপরাধীদের আইনের আওতায় আনার দাবী জানান।
এ বিষয়ে জানতে রাজিয়া বেগমের বাড়ীতে গেলে তিনি কোন বক্তব্য দিতে রাজি হননি।
জানতে চাইলে ভোজেস্বর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ জুবায়ের হোসেন বলেন, ‘অগ্নিকাণ্ডের কথা শুনে সাথে সাথে আমরা ঘটনাস্থলে গিয়েছি। ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে কোন লিখিত অভিযোগ পাইনি। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ দিলেও তা গ্রহণ করা হয়নি অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তাদের কাছে কোন অভিযোগ করা হয়নি বলে জানান পুলিশ কর্মকর্তা জুবায়ের।
