শিক্ষার প্রতি ভালোবাসা, নৈতিকতা ও আদর্শচর্চার অনুপ্রেরণা ছড়িয়ে দিতে শরীয়তপুর জেলা ইসলামী ছাত্রশিবিরের আয়োজনে অনুষ্ঠিত হলো এক হৃদয়ছোঁয়া সংবর্ধনা অনুষ্ঠান। এসএসসি, দাখিল ও সমমান পরীক্ষায় জিপিএ-৫ প্রাপ্ত তিন শতাধিক শিক্ষার্থীকে এই অনুষ্ঠানে সম্মানিত করা হয়।
শনিবার (২ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৮টায় শরীয়তপুর পৌরসভা অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে ছিল শিক্ষার্থীদের ফুলেল শুভেচ্ছা, কুরআন তেলাওয়াত এবং ক্রেস্ট ও উপহার প্রদান।
জেলা সভাপতি সাখাওয়াত কাউসারের সভাপতিত্বে এবং জেলা সেক্রেটারি কামরুজ্জামান কাউসারের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানটি প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে অতিথিদের প্রেরণাদায়ী বক্তব্যে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শরীয়তপুর-১ (পালং-জাজিরা) আসনের সম্ভাব্য সংসদ সদস্য প্রার্থী ও ইসলামী ছাত্রশিবির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাবেক সভাপতি ড. মোশারফ হোসেন মাসুদ।
বিশেষ অতিথি ছিলেন ছাত্রশিবির কেন্দ্রীয় সমাজসেবা সম্পাদক ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আব্দুল মোহাইমিন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার বর্তমান সেক্রেটারি মহিউদ্দিন খান, এবং অন্যান্য সাবেক ও বর্তমান দায়িত্বশীল নেতৃবৃন্দ।
অতিথিরা শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন,
“তোমাদের আজকের অর্জন একটি শুরু। এ যেন পথচলার প্রথম ধাপ। কেবল জিপিএ-৫ পাওয়াই জীবনের চূড়ান্ত সফলতা নয়—সত্যিকারের সফলতা নির্ধারিত হবে মৃত্যুর পর তোমার অবস্থা দিয়ে। সে লক্ষ্যে তোমাকে হতে হবে নীতিবান, চরিত্রবান এবং আদর্শ নাগরিক।”
প্রধান অতিথির বক্তব্যে আব্দুল মোহাইমিন বলেন, “এই সম্মাননা যেন তোমাদের আত্মশক্তির জ্বালানি হয়ে দাঁড়ায়। তোমরা যেন দুনিয়ার পাশাপাশি আখিরাতেও সম্মাননা লাভ করতে পারো—সেজন্য চাই আল্লাহর বিধান ও রাসূল (সা.)-এর আদর্শ অনুযায়ী জীবন পরিচালনা।”
অতিথিরা আরও বলেন, “দেশের বড় সমস্যা দুর্নীতি, অবিচার আর সম্পদের অপব্যবহার। এসব করছে শিক্ষিত কিন্তু নৈতিকতাহীন মানুষ। তাই এই মেধাবীদের ভবিষ্যতে হতে হবে সৎ ও নীতিপরায়ণ—যারা দেশ ও জাতিকে আলোর পথে নিয়ে যাবে।”
আয়োজনে ঢাকাস্থ ছাত্রকল্যাণ ফোরামসহ শরীয়তপুর জেলার বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
এক ব্যতিক্রমী সম্মাননার ভেতর দিয়ে একঝাঁক উজ্জ্বল মুখ নিয়ে ভবিষ্যতের আলোকবর্তিকা হয়ে ওঠার আশা জাগিয়ে গেল এই আয়োজন।
