শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার বিলাসপুর ইউনিয়নে বসতঘরে ককটেল বিস্ফোরণে দুই ব্যক্তির মৃত্যুর ঘটনায় মামলা হয়েছে।
জাজিরা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আবুল কালাম আজাদ বাদী হয়ে শুক্রবার(৯ জানুয়ারি) দুপুরে বিস্ফোরক আইনে মামলাটি করেছেন। ওই মামলায় ৫৩ ব্যক্তির নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত ১৫০ ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে।
মামলায় তিন ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। তারা হলেন মনির বেপারী, রুবেল বেপারী ও নয়ন মোল্যা। নয়ন ওই বিস্ফোরণের ঘটনার সময় আহত হয়েছেন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঢাকার একটি হাসপাতাল থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পুলিশের অ্যান্টি টেররিজম ইউনিটের বোম ডিসপোজাল ইউনিট ও সিআইডির ক্রাইমসিন বিভাগ বিস্ফোরণ হওয়া ঘরে তল্লাশি চালিয়ে ককটেল তৈরির বিভিন্ন উপাদান উদ্ধার করেছে। ওই সব উপাদান দিয়ে অন্তত শতাধিক ককটেল বানানো সম্ভব বলে দাবি করেছে পুলিশ।
পুলিশ জানিয়েছে, জাজিরা উপজেলার বিলাসপুর ইউনিয়নের মুলাই বেপারী কান্দি গ্রামে নতুন নির্মিত একটি বসতঘরের মধ্যে ককটেল তৈরি করছিলেন ইউপি চেয়ারম্যান কুদ্দুস বেপারীর সমর্থকরা। এসময় ওই ঘরে বিস্ফোরণের ঘটনায় গত বৃহস্পতিবার ভোররাতে সোহান বেপারী নামে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার বিকেলে নবীন হোসেন নামের আরেকজনের মৃত্যু হয়।
নিহত সোহান চেরাগ আলী বেপারী কান্দি গ্রামের দেলোয়ার বেপারীর ছেলে ও নবীন হোসেন রহিম সরদারের ছেলে।
পুলিশ জানায়, বিস্ফোরণের পর ককটেল তৈরিতে জড়িত ব্যক্তিরা সোহানের লাশ ঘটনাস্থল থেকে ৫০০ মিটার দূরে সাত ঘরিয়া কান্দি এলাকায় একটি ফসলি জমিতে ফেলে পালিয়ে যায়। আর আহত ব্যক্তিদের ঢাকায় নিয়ে যান।
শুক্রবার সকালে ঘটনাস্থলে যায় পুলিশের অ্যান্টি টেররিজম ইউনিটের বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট ও সিআইডির ক্রাইম সিন বিভাগের সদস্যরা। তারা ওই ঘর থেকে আলামত সংগ্রহ করেছেন। শুক্রবার দুপুরের দিকে মুলাই বেপারী কান্দি গ্রামের ওই ঘরটিতে তল্লাশি শেষ করা হয়। পুলিশ কর্মকর্তারা সেখান থেকে ককটেল তৈরির সরঞ্জাম টিনের জর্দার কৌটা, কাচ ভাঙা, কাচের মার্বেল, বিস্ফোরক জাতীয় দাহ্য পদার্থের পাউডার, তারকাঁটা ও লোহার টুকরার অংশ উদ্ধার করে।
বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিটের পরিদর্শক শংকর কুমার ঘোষ বলেন, যে ঘরটিতে বিস্ফোরণ ঘটেছে, সেখানে তল্লাশি চালিয়ে ককটেল বানানোর নানা ধরনের উপাদান উদ্ধার করা হয়েছে। এসব মালামাল জাজিরা থানায় মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তাকে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। জাজিরা থানায় বিভিন্ন সময়ে উদ্ধার হওয়া অবিস্ফোরিত কিছু ককটেল নদীর তীরে নিয়ে বিস্ফোরণ ঘটানো হয়েছে। তাদের ধারণা, বৃহস্পতিবার ভোররাতের দিকে ওই ঘরে ককটেল বানানোর সময় বিস্ফোরণ ঘটে। তখন সেখানে মজুত থাকা আরও ১০-১৫টি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটার কারণে হতাহতের ঘটনা ঘটেছে।
জাজিরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সালেহ্ আহাম্মদ বলেন, ‘‘জাজিরার বিলাসপুরে বসতঘরে বিস্ফোরণের ঘটনায় ৫৩ ব্যক্তির নাম উল্লেখ করে মামলা করা হয়েছে। পুলিশ বাদী হয়ে বিস্ফোরক আইনে মামলাটি করা হয়েছে। ওই মামলায় তিনজন গ্রেপ্তার আছেন। তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হবে। আর বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। এছাড়াও বিস্ফোরক দ্রব্যগুলো কোথা থেকে কীভাবে সংগ্রহ করা হচ্ছে তাও তদন্ত করা হচ্ছে।’’
