শরীয়তপুরের ডামুড্যা উপজেলার কনেশ্বর ইউনিয়নের উত্তর সৈয়দবস্তা গ্রামে উর্বর কৃষিজমি বিনষ্ট এবং সরকারি গ্রামীণ সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত করার অভিযোগে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে একজনকে কারাদণ্ড ও অপর একজনকে দুই লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
সোমবার (১৬ জুন) রাত ৮টা ৪৫ মিনিটে ডামুড্যা উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে পরিচালিত এ অভিযানে উর্বর কৃষিজমি থেকে অবৈধভাবে মাটি কাটার অভিযোগে শফিক মাদবরকে ৪ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। একই ঘটনায় এস্কেভেটর (ভেকু) সরবরাহের দায় স্বীকার করায় কনেশ্বর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও ইউপি সদস্য ইব্রাহিম মেম্বারকে ২ লাখ টাকা অর্থদণ্ড এবং অনাদায়ে ৩ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়।
মোবাইল কোর্ট সূত্রে জানা যায়, উত্তর সৈয়দবস্তা এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে এস্কেভেটরের মাধ্যমে কৃষিজমির মাটি কেটে অন্যত্র বিক্রি করা হচ্ছিল। এতে এলাকার উর্বর কৃষিজমি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) নির্মিত গ্রামীণ সড়কেরও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। স্থানীয়দের অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনাস্থলে অভিযান পরিচালনা করে প্রশাসন।
অভিযানের সময় অভিযুক্ত শফিক মাদবরের বিরুদ্ধে উর্বর কৃষিজমি বিনষ্টের অভিযোগ এবং ইব্রাহিম মেম্বারের বিরুদ্ধে এস্কেভেটর সরবরাহের অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়। তারা উভয়েই অভিযোগ স্বীকার করলে বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০-এর ১৫(১) ধারায় তাদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।
এদিকে একই মামলার আরেক অভিযুক্ত সোহেল বেপারীকে ঘটনাস্থলে পাওয়া না যাওয়ায় তার বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়েরের জন্য ডামুড্যা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
মোবাইল কোর্টে ডামুড্যা থানার একজন পুলিশ কর্মকর্তা অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রসিকিউশন উপস্থাপন করেন। অভিযান চলাকালে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন।
ডামুড্যা উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি জাহিদুর রহমান বলেন,”কৃষিজমির উর্বরতা নষ্ট করে অবৈধভাবে মাটি কাটা দেশের বিদ্যমান আইন অনুযায়ী দণ্ডনীয় অপরাধ। বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০ এবং ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৩ অনুযায়ী এ ধরনের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের বিধান রয়েছে। ভবিষ্যতেও কৃষিজমি রক্ষা ও পরিবেশ সংরক্ষণে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।”
