শরীয়তপুর সদর উপজেলার আংগারিয়া খাদ্য গুদাম থেকে ট্রাকভর্তি বের হওয়া ৪০০ বস্তা সরকারি চাল আটক করেছে স্থানীয় জনতা। পরে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ চালগুলো জব্দ করে সিলগালা করেছে। এ ঘটনায় তিন সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ের অফিস আদেশে জানানো হয়, ‘৪০০ বস্তা সরকারি চাল আটক’ শিরোনামে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ঘটনার প্রেক্ষিতে বিষয়টি তদন্তের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। অভিযোগ রয়েছে, খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির নামে চালগুলো এলএসডি (লোকাল সাপ্লাই ডিপো) থেকে বের করা হলেও তা কালোবাজারে বিক্রির উদ্দেশ্যে নেওয়া হচ্ছিল।
এ অবস্থায় আংগারিয়া এলএসডিতে মজুদ খাদ্যশস্যের সঙ্গে রেকর্ডপত্রের মিল, চাল কোন খাতে এবং কীভাবে গুদাম থেকে বের হয়েছে—এসব বিষয় সরেজমিনে যাচাইয়ের জন্য তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক (ভারপ্রাপ্ত) হুমায়ুন কবিরের কাছে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
তদন্ত কমিটিতে গোসাইরহাট উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. তরিকুল ইসলামকে আহ্বায়ক, জাজিরা উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মোহাম্মদ রাশেদ উজ্জামান খানকে সদস্য সচিব এবং জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কার্যালয়ের কারিগরি খাদ্য পরিদর্শক মুহাম্মদ বেলায়েত হোসেনকে সদস্য করা হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সোমবার দুপুরে আংগারিয়া খাদ্য গুদাম থেকে একটি ট্রাকে করে সরকারি সিলযুক্ত ৪০০ বস্তা চাল কোটাপাড়া এলাকায় নেওয়া হচ্ছিল। ট্রাকটি শরীয়তপুর-ঢাকা সড়কের পালং মডেল থানার কাছে পৌঁছালে স্থানীয়দের সন্দেহ হলে তারা সেটি আটকায়।
এ সময় চালক ও হেলপার দাবি করেন, চালগুলো ওজনের জন্য প্রেমতলা এলাকায় নেওয়া হচ্ছিল। তবে জনতা খালাস আদেশ (এলইউএ), বিলি আদেশ (ডিও) ও রিকুইজিশন সংক্রান্ত কাগজপত্র দেখতে চাইলে তারা তা দেখাতে ব্যর্থ হন এবং ট্রাক ফেলে পালিয়ে যান।
পরে গুদাম সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে এসে একটি চালানফরম দেখিয়ে জানান, চালগুলো খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় রুদ্রকর ইউনিয়নের এক ডিলারের নামে বরাদ্দকৃত ২৪ মেট্রিক টন চালের অংশ। তবে ঘটনাস্থলেই ওই ডিলার এ চাল তার নয় বলে অস্বীকার করলে সন্দেহ আরও ঘনীভূত হয়।
স্থানীয়রা জানান, বিষয়টি জেলা ও উপজেলা প্রশাসনকে জানানো হলেও দীর্ঘ সময়েও কেউ ঘটনাস্থলে এসে ব্যবস্থা নেয়নি। পরে সন্ধ্যায় পুলিশ ট্রাকসহ চালগুলো থানায় নিয়ে যায়। এরপর একই চালান ফরম ব্যবহার করে পুনরায় চাল সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হলে রাত সাড়ে ১০টার দিকে চৌরঙ্গী এলাকায় আবারও তা আটক করা হয়।
রাত ১১টার দিকে সদর উপজেলা খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহনেওয়াজ আলম ঘটনাস্থলে এলে জনতার প্রশ্নের মুখে পড়েন। শেষ পর্যন্ত রাত ২টার দিকে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষ ট্রাকসহ চালগুলো পুনরায় আংগারিয়া খাদ্য গুদামে নিয়ে যায়।
প্রত্যক্ষদর্শী ইমরান আল নাজির ও মহিউদ্দিন বেপারী বলেন, দুপুরে চাল আটক হলেও রাত পর্যন্ত প্রশাসনের কেউ স্পষ্টভাবে দায়িত্ব নেয়নি। এতে পুরো ঘটনাটি নিয়ে জনমনে প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের শাস্তির দাবি জানান।
জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক (ভারপ্রাপ্ত) হুমায়ুন কবির বলেন, “আমরা ট্রাকসহ ৪০০ বস্তা চাল জব্দ করে সিলগালা করেছি এবং গুদামে সংরক্ষণে রেখেছি। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
