ঢাকাশনিবার , ১৭ আগস্ট ২০২৪
  1. অপরাধ
  2. অর্থনীতি
  3. আইন-আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. আবহাওয়া
  6. কৃষি
  7. খেলাধুলা
  8. গণমাধ্যম
  9. গোসাইরহাট
  10. চাকরি
  11. জাজিরা
  12. জাতীয়
  13. ট্যুরিজম
  14. ডামুড্যা
  15. দেশজুড়ে
আজকের সর্বশেষ সবখবর
  • সর্বশেষ

  • আপনার এলাকার খবর খুঁজুন

    খুঁজুন
  • ইরাকের নারী ও শিশু অধিকার বদলে দেয়ার উদ্যোগ

    শরীয়তপুর টাইমস্ ডেস্ক
    আগস্ট ১৭, ২০২৪ ৬:২১ অপরাহ্ণ
    Link Copied!

    ইরাকের রক্ষণশীল রাজনীতিবিদেরা দেশটির পারিবারিক আইন পারিবর্তন করতে চান৷ এর ফলে বাল্য বিবাহ বেড়ে যাওয়া ও নারী অধিকার কমার শঙ্কা তৈরি হয়েছে৷

    ইরাকের রক্ষণশীল রাজনীতিবিদেরা দেশটির পারিবারিক আইন পারিবর্তন করতে চান৷ এর ফলে বাল্য বিবাহ বেড়ে যাওয়া ও নারী অধিকার কমার শঙ্কা তৈরি হয়েছে৷

    ইরাকের রক্ষণশীল রাজনীতিবিদেরা দেশটির পারিবারিক আইন পারিবর্তন করতে চান৷ এর ফলে বাল্য বিবাহ বেড়ে যাওয়া ও নারী অধিকার কমার শঙ্কা তৈরি হয়েছে৷

    গোটা মধ্যপ্রাচ্যের মধ্যে ইরাকের পারিবারিক আইনকে সবচেয়ে উদার বলে ধরে নেয়া হয়৷ তবে এই আইন পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়েছে দেশটির সরকার৷ এ নিয়ে চলছে প্রতিবাদ, সামাজিক মাধ্যমে বিতর্ক৷

    ‘‘এটাই বাগদাদ,” সাংবাদিক ও মানবাধিকারকর্মী আলি আল মুকদাম ইরাকের রাজধানীতে হওয়া প্রতিবাদের ছবি দিয়ে সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ এমনটাই লিখেছেন৷ সপ্তাহান্তের এই প্রতিবাদে প্রায় ৫০০ মানুষ জড়ো হয়েছিলেন৷ তিনি আরো লিখেছেন, ‘‘ইরাকের রাজধানী কখনও কান্দাহার ছিল না, হবেও না৷” আফগানিস্তানে নারীদের অধিকার পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে এই কথা বলেছেন তিনি৷

    ইরাকের পার্সোনাল স্ট্যাটাস আইন বা পারিবারিক আইনের মাধ্যমে বিয়ে, বিচ্ছেদ, অভিভাবকত্ত্ব ও উত্তরাধিকারের মতো ইস্যুগুলো নির্ধারিত হয়৷ মধ্যপ্রাচ্যের অনেক দেশে এই বিষয়গুলোকে ধর্মীয়ভাবে সামলানো হলেও ইরাকে তা ১৯৫৯ সালে পাস হওয়া ১৮৮ নং আইনের মাধ্যমে পরিচালিত হতো৷ সুন্নি ও শিয়া মুসলিম আদালতের পরিবর্তে সিভিল জুডিশিয়ারি প্রতিষ্ঠিত হয়৷

    তবে বর্তমানে রক্ষণশীল শিয়া মুসলিম দলের সঙ্গে যুক্ত রাজনীতিবিদেরা এর পরিবর্তন ঘটাতে চান৷ ৪ আগস্ট তাদের আনা এই আইনের সংস্কার পার্লামেন্টে পেশ করা হয়েছে৷ এর প্রতিবাদে দেশটির মানধিকারকর্মী ও রাজনীতিবিদেরা ‘জোট ১৮৮’ গঠন করেছে৷ তারাই সপ্তাহান্তের বিক্ষোভের আয়োজন করেছে৷

    বিক্ষোভে অংশ নেয়া স্থানীয় এক ব্যক্তি ডিডাব্লিউকে বলেন, ‘‘আমাদের যে আইন এখন রয়েছে তা ভালোর জন্য পরিবর্তিত হতে পারে, খারাপ কিছুর জন্য নয়৷ আমরা পেছনের দিকে যেতে পারি না৷” রাশা নামের ৫৩ বছরের ঐ ব্যক্তি নিপীড়নের ভয়ে তার পুরো নাম প্রকাশ করতে চাননি৷

    ইরাকের শহর নাজাফে পুলিশ বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়৷ রাশা বলেন, ‘‘আমার মতে তারা নারী অধিকারকে ঘৃণা করে, আর এ কারণেই তারা আইনের পরিবর্তন চায়৷”

    কী পরিবর্তন

    নতুন আইন অনুযায়ী ব্যক্তির বিয়ে সিভিল আদালত নাকি ধর্মীয় আদালতে নিবন্ধিত হবে তা বেছে নিতে পারবেন দম্পতিরা৷

    যারা পরিবর্তনের পক্ষে তাদের দাবি ইরাকে বিয়ে মূলত ধর্মীয়ভাবেই হয়৷ তা আইন মোতাবেক না হলেও সামাজিকভাবে ন্যয়সঙ্গত বলেই বিবেচিত হয়৷ তাদের দাবি আইনের সংস্কারটি এই বাস্তবতার নিরিখেই করা হচ্ছে৷

    কিন্তু বিরোধীদের দাবি আইনি ব্যবস্থা বেছে নেয়ার মধ্য দিয়ে ইসলামিক আইনের ক্ষতিকর ব্যাখ্যার সুযোগ তৈরি হবে৷ যেমন, বর্তমান আইনে বিয়ের আইনি বয়স ১৮ হলেও ধর্ম অনুসারে নয় বছরের শিশুকেও বিয়ে দেয়া যেতে পারে৷

    জাতিসংঘের হিসাবে, এরই মধ্যে ১৮ বছরের কম বয়সে বিয়ের হার এক তৃতীয়াংশ৷ মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বলছে, ধর্মীয় নেতাদের মাধ্যমে অনিবন্ধিত বিয়ের কারণে শিশুদের বিয়ে এড়ানো সম্ভব হচ্ছে না৷

    আইনের পরিবর্তন হলে নারী অধিকারের দিক থেকে দেশটি পিছিয়ে পড়বে বলেও মনে করেন বিরোধীরা৷ এর ফলে ইরাকের সমাজ আরো বিভক্ত হয়ে পড়বে বলেও তাদের আশঙ্কা৷ বর্তমান আইনটি সব ইরাকির উপর সমানভাবে প্রযোজ্য৷ কিন্তু সংশোধনীটি পাস হলে সমাজে সংঘাত তৈরি হবে এবং ইরাকের আইনি ব্যবস্থাও এতে ভেঙে পড়বে বলে মনে করেন তারা৷

    Read more 

    আইন পাসের সম্ভাবনা কতটা

    ইরাকের পারিবারি আইন এর আগেও পরিবর্তনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল৷ ২০০৩, ২০০৫, ২০১৪ ও ২০১৭ সালে তা ব্যর্থ হয়েছে৷ তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, সংসদের বিরোধী দলগুলির মধ্যে রাজনৈতিক সমঝোতার মাধ্যমে এবার তা পাস হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে৷

    শেষবার যখন সংশোধনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে, তখন সুন্নি রাজনীতিকেরা আইন পরিবর্তনের বিরোধিতা করেছিলেন৷ বর্তমানে পৃথক আরেকটি বিল পাসের প্রস্তাব রয়েছে তাদের, যার মাধ্যমে চরমপন্থী ‘ইসলামিক স্টেট’ বা আইএস গ্রুপের সাবেক সদস্যদের ক্ষমা করার সুযোগ তৈরি হবে৷ এর আগে শিয়া মুসলিম রাজনীতিকেরা এর বিরোধিতা করেছিল৷ তারা উভয়ই এখন একে অপরের আনা বিল সমর্থন করার সমঝোতায় পৌঁছাতে পারে৷

    ব্রিটিশ থিঙ্ক ট্যাঙ্ক চ্যাথাম হাউসের ইরাক ইনিশিয়েটিভের প্রকল্প পরিচালক রেনাদ মনসুর বলেন, “অতীতে জ্যেষ্ঠ নেতারা এটিকে পর্দার আড়ালে ঠেলে দিতে পেরেছেন৷ এখন এটি পাস হবে কিনা তা বলা কঠিন, তবে তা আগের চেয়ে পাসের অনেক কাছাকাছি রয়েছে৷”

    এই অয়েবসাইটে প্রতিনিধিদের কর্তৃক তথ্যপ্রাপ্তি হয়ে নিজস্ব প্রতিবেদক কর্তৃক নিউজ প্রস্তুত করে প্রকাশ করা হয়। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো। বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।

    Design & Developed by BD IT HOST