ঢাকাশুক্রবার , ২ অক্টোবর ২০২৬
  1. অপরাধ
  2. অর্থনীতি
  3. আইন-আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. আবহাওয়া
  6. কৃষি
  7. খেলাধুলা
  8. গণমাধ্যম
  9. গোসাইরহাট
  10. চাকরি
  11. জাজিরা
  12. জাতীয়
  13. ট্যুরিজম
  14. ডামুড্যা
  15. দেশজুড়ে
আজকের সর্বশেষ সবখবর
  • সর্বশেষ

  • আপনার এলাকার খবর খুঁজুন

    খুঁজুন
  • নড়িয়ায় তীররক্ষা বাঁধে ফাটল-ধস, জিও ব্যাগ ফেলছে পানি উন্নয়ন বোর্ড

    নিজস্ব প্রতিবেদক
    অক্টোবর ২, ২০২৬ ৬:২৩ অপরাহ্ণ
    Link Copied!

    নির্মাণের তিন বছরের মাথায় শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার সুরেশ্বর মাছবাজার এলাকায় পদ্মা নদীর ডান তীররক্ষা বাঁধে বড় ধরনের ফাটল দেখা দিয়েছে। ফাটল দেখা দেওয়ার এক দিনের মধ্যেই বাঁধের প্রায় ২০ মিটার অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এতে নদীতীরবর্তী ব্যবসায়ী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।

    বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সুরেশ্বর মাছবাজার এলাকায় নদীতীররক্ষা বাঁধের প্রায় ৫০ মিটার অংশে ফাটল দেখা দেয়। পরদিন বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যে ফাটল ধরা অংশের প্রায় ২০ মিটার নদীতে তলিয়ে যায়।

    স্থানীয়দের অভিযোগ, পদ্মা নদীতে অনুমোদনহীনভাবে ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন ও ড্রেজিংয়ের কারণে নদীর তলদেশ ও তীরের গঠন পরিবর্তিত হয়ে বাঁধের ওই অংশ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়তে পারে। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

    এলাকাবাসী জানান, বাঁধের আরও একটি অংশে ফাটল ও ধসের আশঙ্কা রয়েছে। এরই মধ্যে অনেক ব্যবসায়ী তাঁদের দোকানের মালামাল নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে শুরু করেছেন। ক্ষতিগ্রস্ত অংশ দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা না গেলে সুরেশ্বর মাছবাজারসহ আশপাশের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও জনবসতি হুমকির মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তাঁরা।

    সুরেশ্বর মাছবাজারের ব্যবসায়ী কাইয়ুম খান বলেন, “বাঁধে ফাটল দেখা দেওয়ার পর থেকেই আমরা আতঙ্কের মধ্যে আছি। এরই মধ্যে একটি বড় অংশ নদীতে চলে গেছে। বাঁধের কাছাকাছি নদীতে ড্রেজার চলার কারণে এমনটি হয়েছে কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা দরকার।”

    স্থানীয় বাসিন্দা আবুল বাসার বলেন, “নদীতে নিয়ম না মেনে ড্রেজিং ও বালু উত্তোলন করা হলে তীরের মাটি সরে গিয়ে বাঁধ দুর্বল হয়ে পড়তে পারে। বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।”

    আরেক স্থানীয় বাসিন্দা সাইদুর বলেন, “বাঁধটি নির্মাণের পর কয়েক বছর যেতে না যেতেই এভাবে ফাটল দেখা দেওয়ায় আমরা চিন্তিত। এখনই ব্যবস্থা না নিলে আরও বড় অংশ নদীতে বিলীন হয়ে যেতে পারে।”

    সুরেশ্বর মাছবাজার নদীতীরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ একটি বাণিজ্যিক কেন্দ্র। প্রতিদিন বিভিন্ন এলাকার ব্যবসায়ী, জেলে ও সাধারণ মানুষের সমাগম হয় এখানে। বাঁধের একটি অংশ নদীতে বিলীন হওয়ার পর বাজারের ব্যবসায়ীদের মধ্যে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।

    বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উদ্যোগে ২০২৩ সালে নড়িয়া উপজেলার সুরেশ্বর মাছবাজার থেকে জাজিরা উপজেলার বিলাসপুর পর্যন্ত পদ্মা নদীর ডান তীরে প্রায় ১০ কিলোমিটার দীর্ঘ তীররক্ষা বাঁধ নির্মাণ করা হয়। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ব্যয় হয়েছে প্রায় ১ হাজার ৪০৩ কোটি টাকা।

    নির্মাণের তিন বছরের মাথায় বাঁধের একটি অংশে ফাটল ও ধস দেখা দেওয়ায় প্রকল্পের স্থায়িত্ব ও কাজের মান নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা। পাশাপাশি নদীতে অবৈধ ড্রেজিংয়ের অভিযোগ তদন্ত করে দেখার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

    ফাটলের খবর পেয়ে নড়িয়া উপজেলা প্রশাসন ও শরীয়তপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। ক্ষতিগ্রস্ত অংশ রক্ষায় জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ফেলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

    শরীয়তপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মিল্টন হোসেন বলেন, বুধবার সুরেশ্বর মাছঘাট এলাকায় নদীতীররক্ষা বাঁধের প্রায় ৫০ মিটার অংশে ফাটল দেখা দেয়। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার দিকে ফাটল দেখা দেওয়া অংশের প্রায় ২০ মিটার নদীতে তলিয়ে যায়। খবর পাওয়ার পর তাঁরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। শুক্রবার সকাল থেকে ক্ষতিগ্রস্ত স্থানে জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ডাম্পিং কার্যক্রম শুরু করা হবে।

    স্থানীয়দের অভিযোগ, নদীতে অনুমোদনহীন ড্রেজিং ও বালু উত্তোলনের কারণে বাঁধের ক্ষতি হয়েছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা প্রয়োজন। অন্যদিকে ক্ষতিগ্রস্ত অংশে জরুরি প্রতিরোধমূলক কাজ শুরু হওয়ায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। তবে বাঁধের ক্ষতিগ্রস্ত অংশ দ্রুত সুরক্ষিত করা না গেলে পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বাসিন্দারা।

    এদিকে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছান শরীয়তপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য শফিকুর রহমান কিরণ। এ সময় তিনি সাংবাদিকদের বলেন, “আমাদের এক ইঞ্চি মাটিও যেন নদীগর্ভে বিলীন না হয়, সে জন্য আমরা প্রস্তুতি নিচ্ছি। জরুরি ভিত্তিতে ভাঙন প্রতিরোধের কাজ চলমান রয়েছে। সার্ভের মাধ্যমে চিহ্নিত এলাকায় এক সপ্তাহ জরুরি কাজ চালানো গেলে নদীভাঙন থেকে এলাকা রক্ষা করা সম্ভব হবে বলে আমরা মনে করছি। রাতের আঁধারে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের বিষয়ে অভিযোগ পেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

    এই অয়েবসাইটে প্রতিনিধিদের কর্তৃক তথ্যপ্রাপ্তি হয়ে নিজস্ব প্রতিবেদক কর্তৃক নিউজ প্রস্তুত করে প্রকাশ করা হয়। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো। বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।

    Design & Developed by BD IT HOST