শরীয়তপুরের জাজিরা প্রান্তে পদ্মা সেতু প্রকল্প এলাকার রক্ষা বাঁধে আজ বুধবার (৩১ জুলাই) ভোর ৫টা থেকে আবারও ভয়াবহ ভাঙন শুরু হয়েছে। ঘটনার পরপরই ভাঙন কবলিত এলাকা পরিদর্শনে ছুটে যান জাজিরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কাবেরী রায়। তিনি ক্ষতিগ্রস্তদের সঙ্গে কথা বলেন এবং দ্রুত সহায়তার আশ্বাস দেন।
পদ্মা সেতুর জাজিরা প্রান্তে নদীভাঙন যেন থামছেই না। সেতু হয়েছে, সেনানিবাস হয়েছে, চারপাশে উন্নয়নের জোয়ার, কিন্তু পদ্মার ভয়াল থাবা দিন দিন আরও ভয়ংকর হয়ে উঠছে। সর্বশেষ ভাঙনের ঘটনায় মঙ্গল মাঝিঘাট-সাত্তার মাদবর বাজারসংলগ্ন এলাকায় আজকে আরও টানা ৬ ঘন্টার ভাঙ্গনে ১০০-১১০ মিটার লম্বা ভিতরের দিকে প্রায় ৯০ মিটার জায়গা নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যায়, যার মধ্যে বসবাসরত বাড়িঘর প্রায় আনুমানিক ১৭ টি পরিবার ভাঙ্গনের বিলীন হওয়ার ফলে গৃহহীন হয়ে পড়েছে।
সরকারি তথ্যমতে মাঝিরঘাট এলাকায় পদ্মার চলমান ভাঙনে এখন পর্যন্ত ৭২টি পরিবার ও দোকানপাট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রতিদিন আতঙ্কে অনেকেই নিজেরাই ঘর সরিয়ে নিচ্ছেন নিরাপদ স্থানে।
২০১২ সালে পদ্মা সেতুর সময় যে রক্ষা বাঁধটি ১১০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণ হয়েছিল, সেই বাঁধই এখন একে একে নদীর পেটে চলে যাচ্ছে।পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, গেল নভেম্বর থেকে এ পর্যন্ত পাঁচ দফা বড় ভাঙন হয়েছে। ৭ জুন, ৭ জুলাই, ৯ জুলাই, ২৩ জুলাই এবং সর্বশেষ আজ ৩১ জুলাই সকালে আবারও বড় ভাঙন শুরু হয়েছে। জিও ব্যাগ ফেলা হলেও তা কার্যকর হচ্ছে না। এখন পর্যন্ত ১ লাখ ৩২ হাজারের বেশি জিও ব্যাগ ফেলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা যায়নি।
জাজিরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কাবেরী রায় আজ সকালে ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শনের পর বলেন, “ভোরে খবর পেয়েই আমরা দ্রুত ভাঙন এলাকা পরিদর্শনে যাই। পরিস্থিতি সত্যিই উদ্বেগজনক। পদ্মা নদীর প্রবল স্রোতে বাঁধের পুরনো অংশগুলো ভেঙে পড়ছে। ইতোমধ্যে ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা তৈরি শুরু হয়েছে। যারা ঘরবাড়ি হারিয়েছেন, তাদের দ্রুত সহায়তা দেওয়া হবে। স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। তবে এই এলাকায় একটি টেকসই ও স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ এখন সময়ের দাবি।”
