শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার পালেরচর ইউনিয়নের কাথুরিয়ায় পদ্মা নদীর ভয়াবহ ভাঙন রোধে জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বিকেলে কাথুরিয়া, পালেরচরসহ আশপাশের বিভিন্ন গ্রামের শত শত মানুষ এতে অংশ নেন।
মানববন্ধনে বক্তারা জানান, পদ্মার তীব্র স্রোতে প্রতিদিন কাথুরিয়া ও আশপাশের গ্রামগুলো নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। ঘরবাড়ি, ফসলি জমি ও জনপদ হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়ছেন সাধারণ মানুষ। তারা অভিযোগ করেন, সরকারি উদ্যোগে টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণের কাজ চলমান থাকলেও বর্ষার প্রবল পানি ও স্রোতের কারণে তা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারছে না। তাই স্থায়ী সমাধান না হওয়া পর্যন্ত জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ডাম্পিং কার্যক্রম চালু করার আহ্বান জানান গ্রামবাসীরা।
বক্তারা বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে শরীয়তপুরের বিভিন্ন এলাকায় ভয়াবহ নদী ভাঙন দেখা দিয়েছে। কেবল কাথুরিয়াই নয়, নাওডোবা, মাঝিরঘাট, পৌলান মোল্লা ও পালেরচরও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। নাওডোবায় একের পর এক ঘরবাড়ি ও হাটবাজার নদীতে বিলীন হচ্ছে। মাঝিরঘাটে প্রতিদিন মানুষের চোখের সামনে বসতভিটা গিলে খাচ্ছে পদ্মা। পৌলান মোল্লা ও পালেরচরে কৃষিজমি ও জনবসতি নদীর স্রোতে ভেঙে যাচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, নদী ভাঙন এখন প্রতিদিনের আতঙ্কে পরিণত হয়েছে। রাত নামলেই পরিবারগুলো অনিশ্চয়তায় দিন কাটাচ্ছে। যেকোনো মুহূর্তে নিজের ঘর, ভিটেমাটি নদীতে বিলীন হয়ে যাবে—এমন ভয় নিয়েই বেঁচে আছেন তারা।
মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা সরকারের কাছে অনুরোধ জানিয়ে বলেন, অবিলম্বে কাথুরিয়া এলাকায় জিও ব্যাগ ডাম্পিং কার্যক্রম শুরু করতে হবে এবং চলমান টেকসই বেড়িবাঁধ প্রকল্প দ্রুত সম্পন্ন করতে হবে। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য অস্থায়ী আশ্রয় ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করার আহ্বান জানান তারা।
তাদের হুঁশিয়ারি— যদি দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হয়, তবে পদ্মার ভাঙনে অচিরেই হাজার হাজার মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়বে, ক্ষতিগ্রস্ত হবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মসজিদ, মাদরাসা ও জনপদ।
মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন পালেরচর ইউপি চেয়ারম্যান আবুল ফরাজী, পালেরচর জামায়াতের সেক্রেটারি ইউনুছ মিনা, পালেরচর ইউপি যুবদল সভাপতি আব্দুর রহমান আকন, আবু তাহের হাওলাদার, মেম্বার সেরে বাংলা শরিফ, সজিব ফরাজীসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
