শরীয়তপুরের জাজিরায় মাদকাসক্ত জামাইয়ের দেওয়া আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে শ্বশুরের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। মাত্র কয়েক মিনিটে আগুন গ্রাস করেছে ১৫ লাখ টাকার বেশি মালামাল ও নগদ ২ লাখ ৭০ হাজার টাকা।
শুক্রবার (১৭ অক্টোবর) ভোররাতে উপজেলার আক্কেল মাহমুদ মুন্সি কান্দি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে জাজিরা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
খবর পেয়ে জাজিরা উপজেলা ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। কিন্তু ততক্ষণে দোকানে থাকা নগদ টাকা ও প্রায় ১৫ লাখ টাকার মালামাল পুড়ে যায়।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, শরীয়তপুর সদররের পালং থানার আংগারিয়া ইউনিয়নের চর যাদবপুর গ্রামের রাজ্জাক খাঁর ছেলে মো. রহমান খাঁর সঙ্গে জাজিরা উপজেলার আক্কেল মাহমুদ মুন্সি কান্দি গ্রামের মুজিবুর চৌকিদারের মেয়ে সাবিনা আক্তারের সাথে বিয়ে হয়। শুরুতে সংসার ভালোই চলছিলো, দুজনের মধ্যে ছিলো বোঝাপড়া ও সুখের পরিবেশ। কিন্তু বিয়ের ছয় বছরের মাথায় আচরণে পরিবর্তন আসে রহমান খাঁর। পরে জানা যায়, তিনি মাদকাসক্ত হয়ে পড়েছেন এবং নিয়মিত জুয়া খেলেন ও মাদকে আসক্ত হয়ে যান। এর পর থেকেই নেশার টাকার জন্য স্ত্রী সাবিনা আক্তারের ওপর শুরু হয় নির্যাতন। প্রায়ই অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতেন এবং টাকা না পেলে শারীরিকভাবে নির্যাতন করতেন।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, ১৬ অক্টোবর সন্ধ্যায় রহমান খাঁ তার স্ত্রী ও শ্বশুরবাড়ির লোকদের কাছে ২ লক্ষ টাকা যৌতুক দাবি করে। কিন্তু তারা টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে সে। তখন স্ত্রীকে বেধড়ক মারধর করে এবং হুমকি দেয়, “টাকা না দিলে তোমাদের বাড়ি ও দোকানে আগুন লাগিয়ে দেব।”
এরপর ১৭ অক্টোবর রাত আড়াইটার দিকে রহমান খাঁ সেই হুমকি বাস্তবায়ন করে। গভীর রাতে শ্বশুরবাড়িতে গিয়ে বাইরে থেকে ঘরের দরজায় তালা মেরে দেয়, তারপর পেট্রোল ঢেলে তার শশুর মুজিবুর চৌকিদারের দোকানে আগুন ধরিয়ে পালিয়ে যায়। মুহূর্তের মধ্যেই আগুন দোকান ও ঘরজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে, সৃষ্টি হয় আতঙ্ক ও ধ্বংসের বিভীষিকা।
এ বিষয়ে প্রত্যক্ষদর্শী মাসুদ রানা জানান, আমরা মানুষের চিৎকারের আওয়াজ পেয়ে বের হয়ে দেখি ভয়াবহ আগুন জলছে। আগুনের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে আমরা কিছুই বাঁচাতে পারেননি।
অভিযোগকারী মুজিবুর চৌকিদারের ছেলে রাসেল জানান, “আমরা বোনের সংসার টিকিয়ে রাখার আশায় দুই মাস আগে রহমানকে বিদেশ যাওয়ার জন্য ৩ লাখ টাকা দিয়েছিলাম। কিন্তু সে সেই টাকা নেশা ও জুয়ায় উড়িয়ে দিয়েছে। আবারো টাকা চাচ্ছে। দিতে না পারায় এখন প্রতিশোধ নিতে আমাদের জীবিকা ধ্বংস করেছে।”
ভুক্তভোগী মুজিবর চৌকিদার বলেন,
“রহমান আমার মেয়ের ওপর সময়ের পর সময় জুলুম করেছে—টাকার জন্য নিয়মিত মারধর করেছে, মানসিক ও শারীরিকভাবে অত্যাচার করেছে। ১৬ অক্টোবর সে দুই লাখ টাকা দাবি করে এবং আমরা দিতে পারি না বললে অশ্রাব্য ভাষায় গালাগাল শুরু করে। এরপর হুমকি দিয়ে বলেছিল, ‘টাকা না দিলে আমি তোমাদের ঘর-দোকোন আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেবো। পরে টাকা না পাওয়ায় পরদিন রাতে আমাদের দোকানে আগুন দিয়েছে। আমি এর সঠিক বিচার চাই।”
এঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত রহমান খাঁ পলাতক। তবে তার শ্বশুরবাড়ির লোকজনের দাবি, আগুন লাগানোর পরও সে ফোনে এবং লোক মারফত প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে যাচ্ছে।
আক্কেল মাহমুদ মুন্সি কান্দির স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন— “একজন মাদকাসক্ত মানুষ শুধু নিজের জীবন নয়, পুরো পরিবারকে ধ্বংস করে দিতে পারে। এমন ঘটনার যেন পুনরাবৃত্তি না ঘটে।”
এ বিষয়ে জাজিরা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাইনুল ইসলাম বলেন, “ভুক্তভোগীর অভিযোগ পেয়েছি। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
