গোপালগঞ্জে ১০ লাখ টাকাসহ শরীয়তপুরের সড়ক বিভাগের এক পিয়ন ও প্রাইভেট কারের চালককে আটক করেছে গোপালগঞ্জ থানার পুলিশ। এ সময় একটি প্রাইভেট কার জব্দ করা হয়েছে।
বুধবার(১৮ ডিসেম্বর) বিকেলে নিয়মিত তল্লাশি চলাকালে শহরের পুলিশ লাইনস মোড় থেকে তাদের আটক করা হয়। পুলিশের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
ওই সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, গোপালগঞ্জ শহরের পুলিশ লাইনস মোড়ে নিয়মিত তল্লাশি চলাকালে গতকাল বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে একটি প্রাইভেট কার থামিয়ে তল্লাশি করা হয়। তল্লাশির সময় প্রাইভেট কারের ভেতরে থাকা একটি ব্যাগে মোট ১০ লাখ টাকা পাওয়া যায়। জিজ্ঞাসাবাদে প্রাইভেট কারে আরোহী ও শরীয়তপুর সড়ক বিভাগের পিয়ন মোশারফ হোসেন অসংলগ্ন কথাবার্তা বলেন।
বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হলে তল্লাশিচৌকিতে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরা প্রাইভেট কার ও টাকা জব্দ করেন। পরে পিয়ন ও চালককে আটক করে গোপালগঞ্জ সদর থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।
আটক মোশারফের বাড়ি মাদারীপুর সদর উপজেলার চর খসরু গ্রামে এবং প্রাইভেট কারের চালক শরীয়তপুরের দক্ষিণ মধ্যপাড়া এলাকার মো. মনির হোসেন (৪০)।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে সড়ক বিভাগের দায়িত্বশীল একাধিক ব্যক্তিরা জানান, শরীয়তপুর সড়ক বিভাগের একটি কাজের দরপত্রের অনুমোদনের জন্য ওই টাকা গোপালগঞ্জ সড়ক সার্কেলের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী ও জোনের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীকে দেওয়ার জন্য নেয়া হয়েছিল। টাকার খামের ওপর ‘সার্কেল’ অর্থাৎ গোপালগঞ্জ সড়ক সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী জিকরুল ইসলামের দপ্তরের নাম উল্লেখ ছিল।
তবে মোশারফ হোসেন তল্লাশিচৌকিতে পুলিশকে বলেছিলেন, ওই টাকা গোপালগঞ্জ সড়ক সার্কেলের উপসহকারী প্রকৌশলী সাজ্জাদ হোসেনকে দেওয়ার জন্য নিয়েছিলেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে সড়ক বিভাগের দায়িত্বশীল একাধিক ব্যক্তিরা বলেন, অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী সাদেকুল ইসলাম ও তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী জিকরুল ইসলাম কৌশলে এ ঘটনার দায় উপসহকারী প্রকৌশলী সাজ্জাদ হোসেনের ওপর চাপিয়ে দিচ্ছেন।
এ বিষয়ে গোপালগঞ্জ সড়ক সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী জিকরুল ইসলাম বলেন, ‘বুধবার রাতে শরীয়তপুরের নির্বাহী প্রকৌশলী সাহেব আমাকে মোবাইলে এই বিষয়টি একবার বলেছিল। আমি এটা নিয়ে মাথা ঘামাইনি। কারণ, এটা আমার বিষয় নয়। আমি বিগত ৩০ বছর সড়ক বিভাগে চাকরি করে কোনো দিন ফিল্ডে কাজ করিনি। এই সরকারের আমলে গোপালগঞ্জে বদলি হওয়ার পর এই প্রথম আমাকে ফিল্ডে কাজ করতে হচ্ছে। এ ছাড়া আমি তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী হিসেবে কোনো ঠিকাদারের বিল কিংবা টেন্ডার প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িত নই। তবে আমি গোপালগঞ্জে আসার আগে থেকেই এ সরকার নতুন একটি নিয়ম চালু করেছে, এখন থেকে নির্বাহী প্রকৌশলী তার দপ্তর থেকেই সব ধরনের টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করবেন।’
গোপালগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অর্থ ও প্রশাসন) মোহাম্মদ আফতাব উদ্দিন বলেন, বুধবার পুলিশ লাইনস মোড় থেকে ১০ লাখ টাকাসহ ওই দুজনকে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় গোপালগঞ্জ সড়ক বিভাগের উপসহকারী প্রকৌশলী সাজ্জাদ হোসেনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আনা হয়েছে। এ বিষয়ে আইনি পদক্ষেপ প্রক্রিয়াধীন আছে।
জানা যায়, শরীয়তপুর সড়ক বিভাগ দীর্ঘদিন যাবৎ গোপালগঞ্জ সড়ক সার্কেল ও জোনের অধীনে কাজ করে আসছে।
