শরীয়তপুরের গোসাইরহাট আমলি আদালতে এক ব্যক্তি নিজেকে বিচারপতির ভাগ্নে পরিচয় দিয়ে এক আসামির জামিন করানোর চেষ্টা করেছেন। এ ঘটনায় তার পরিচয় যাচাইয়ে ভুয়া প্রমাণিত হলে পুলিশ তাকে আটক করেছে।
মঙ্গলবার(৩০ ডিসেম্বর) দুপুরে এঘটনা ঘটে।
আদালতে সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার দুপুরের আমলী আদালত গোসাইরহাট থানার এজলাস কক্ষে মিজানুর রহমান নামে এক ব্যক্তি বিচারপতির ভাগ্নে পরিচয়ে আমলী আদালত গোসাইরহাট থানার দায়িত্বরত বিচারকের সাথে সাক্ষাত করতে চান। ওই আদালতের অফিস সহায়ক আসাদুল্লাহ জুনায়েদ বিচারকের অনুমতি নিয়ে ওই ব্যক্তিকে বিচারকের খাস কামরায় নিয়ে যায়। বিচারকের নিকট ওই ব্যক্তি পুনরায় বিচারপতির ভাগ্নে পরিচয়ে গোসাইরহাটের একটি সিআর মামলার প্রধান আসামী রাকিব বেপারীকে জামিন দিতে হবে বলে বিচারককে বলেন এবং বিচারকের নিকট নিয়ম বর্হিভূতভাবে মামলার কাগজপত্র ও আব্দুস সালাম নামে এক আইনজীবীর স্বাক্ষরিত একটি জামিনের দরখাস্ত দেন। তাৎক্ষনিক ওই বিচারক পরিচয় দেয়া বিচারপতির ফোন নম্বর জানতে চান এবং ওই নম্বরে ফোন করেন। এসময় নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়। তখন ভাগ্নে পরিচয় দেয়া ব্যক্তি নিজেও কথিত বিচারপতির নম্বরে ফোন দিয়ে বন্ধ পান। বিষয়টি বিচারকের সন্দেহ হলে সদর কোর্ট পুলিশকে অবহিত করেন তিনি।
কোর্ট পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে ওই ব্যক্তি জানান, তার বাড়ী পিরোজপুর মঠবাড়িয়া উপজেলায়। তিনি মহাখালী স্বাস্থ্য বিভাগে আনসারে কর্মরত আছেন বলেন জানান এবং জামিন চাওয়া আসামী রকিব বেপারীর বড় ভাই ফারুক বেপারী তার বন্ধু। বন্ধুর ভাইকে জামিন করানোর জন্য তিনি বিচারপতির ভাগ্নে পরিচয়ে আদালতকে বিভ্রান্ত করে আসামী রাকিব বেপারীর জামিন করানোর চেষ্টা করেন।
শরীয়তপুর জেলা চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বেঞ্চ সহকারী কামাল হোসাইন বলেন, বেলা ২টার দিকে মিজানুর রহমান নামে এক ব্যক্তি নিজেকে বিচারপতির ভাগ্নে পরিচয় দিয়ে গোসাইরহাট আমলি আদালতে হাজির হন। তিনি একটি মামলার প্রধান আসামী রাকিব বেপারীর জামিন করানোর জন্য আদালতকে চাপ দিতে চেষ্টা করেন। তিনি মামলার কাগজপত্র ও জামিনের দরখাস্তও আদালতে উপস্থাপন করেন। কিন্তু মামলার দায়িত্বে থাকা বিচারক তার পরিচয়ের সত্যতা যাচাই করতে বিচারপতির মোবাইল নম্বরে ফোন করলে নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়। সন্দেহ হওয়া তাকে পালং থানা পুলিশ হেফাজতে দেয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) শাহ আলম বলেন, ‘আদালত থেকে এখনো কোনো এজাহার হাতে আসেনি। ওই ব্যক্তি বর্তমানে থানা হেফাজতে রয়েছেন। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি আনসার সদস্য হিসেবে ঢাকায় কর্মরত এবং বাড়ি পিরোজপুরে বলে জানিয়েছেন। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
