শরীয়তপুরের ডামুড্যা উপজেলার ধানকাঠি ইউনিয়নের চরমালগাও গ্রামের দুবাই প্রবাসী আবু তাহের বেপারীকে ধরে নিয়ে মিথ্যা ও ষড়যন্ত্রমূলক মামলায় জেল হাজতে পাঠানোর প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) বিকেলে ধানকাঠি ইউনিয়নের মডেরহাট বাজার এলাকায় কয়েকশত নারী-পুরুষ ওই বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ কর্মসূচিতে অংশ নেন। বিক্ষোভকারীরা প্রবাসী আবু তাহের বেপারীর নিঃশর্ত মুক্তি ও দায়ের করা মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন।
বিক্ষোভ মিছিলটি মডেরহাট বাজারের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে ধানকাঠি ইউনিয়ন পরিষদের সামনে গিয়ে সমাবেশ করে শেষ হয়।
সমাবেশে বক্তব্য রাখেন স্থানীয় শাজাহান মাদবর। তিনি বলেন, “আবু তাহের বেপারী একজন নিরীহ প্রবাসী। যে অভিযোগে তাকে আটক করে জেলে পাঠানো হয়েছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও হয়রানিমূলক। আমরা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই এবং অবিলম্বে তার মুক্তি দাবি করছি।”
এ সময় আবু তাহের বেপারীর স্ত্রী জায়েদা বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমার স্বামীকে ধরে নিয়ে মিথ্যা মামলায় জেলে পাঠানো হয়েছে। আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই এবং আমার স্বামীর নিঃশর্ত মুক্তি চাই।”
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মডেরহাট বাজার এলাকায় দুই ভাই মুজাফফর সরদার ও মজিদ সরদারের মোট ২৯ শতাংশ জমি ছিল। এর মধ্যে মজিদ সরদার তার অংশের সাড়ে ১৪ শতাংশ জমি বিক্রি করলেও মুজাফফর সরদারের অংশের জমি অবিক্রীত থাকে। পরবর্তীতে মজিদ সরদারের বিক্রি করা জমির বর্তমান ওয়ারিশ হন আজিজ বেপারীর দুই ছেলে ফিরোজ বেপারী ও লুৎফর বেপারী। অপরদিকে, মুজাফফর সরদারের অংশের সাড়ে ১৪ শতাংশ জমির ওয়ারিশ হন তার জামাই মঙ্গল সরদারের কন্যা খালেদা, কুনসুম, রেনু সহ মোট পাঁচ মেয়ে।
অভিযোগ রয়েছে, ফিরোজ বেপারী ও লুৎফর বেপারী জোরপূর্বক পুরো ২৯ শতাংশ জমি দখলের চেষ্টা করেন এবং অপর পক্ষের ওয়ারিশদের অংশ না দিয়ে সেখানে ঘর নির্মাণ শুরু করেন। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়।
এ অবস্থায় খালেদা বেগম ও তার বোনেরা স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের পাশাপাশি দুবাই প্রবাসী আবু তাহের বেপারীকে নিয়ে একটি সালিশ ডাকার উদ্যোগ নেন। সালিশ বৈঠকের কথা থাকলেও গত বুধবার (১৪ জানুয়ারি) ফিরোজ ও লুৎফর বেপারী সালিশ উপেক্ষা করে বিরোধপূর্ণ জমিতে স্থাপনা নির্মাণের চেষ্টা করলে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
খবর পেয়ে আবু তাহের বেপারীসহ সালিশকারীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন বলে স্থানীয়রা জানান।
ঘটনার পর লুৎফর বেপারী বাদী হয়ে আবু তাহের বেপারীসহ চারজনের বিরুদ্ধে ডামুড্যা থানায় চাঁদাবাজি ও বিস্ফোরক আইনে মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় বুধবার দিবাগত রাতেই পুলিশ আবু তাহের বেপারীকে আটক করে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠায়।
এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে। বিক্ষোভকারীরা অবিলম্বে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করে প্রবাসী আবু তাহের বেপারীর নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানান।
