শরীয়তপুরের নড়িয়ার ভোজেস্বর এলাকা থেকে ছাত্রলীগ সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ তুলে এক যুবককে আটকের পর সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় গ্রেফতার দেখানোর অভিযোগ উঠেছে নড়িয়া থানা পুলিশের বিরুদ্ধে।
পুলিশ ও আটক যুবকের স্বজনদের সূত্রে জানা যায়, শনিবার(১৫ আগস্ট) দিবাগত রাতে ভোজেস্বর এলাকার লতিফ মোল্লার ছেলে সাজ্জাদ মোল্লাকে ভোজেস্বর বাসস্ট্যান্ড থেকে আটক করে ভোজেস্বর ফাঁড়ির ইনচার্জ উপ-পরিদর্শক (এসআই) জুবায়ের হোসেন। পরে তাকে নড়িয়া থানার গারদখানায় রাখা হয়। বিষয়টি সাজ্জাদের স্বজনরা জানতে পেরে থানায় গিয়ে তার অপরাধের বিষয়ে জানতে চাইলে, তাদের জানানো হয় তিনি ছাত্রলীগের সাথে সংশ্লিষ্ট। তবে ছাত্রলীগের সাথে সংশ্লিষ্টতার কোন প্রমাণ উপস্থাপন করতে ব্যর্থ হয় পুলিশ। এরপর বিষয়টি জেলা পুলিশ সুপার রওনক জাহানকে জানালে তিনি জানান বিষয়টি যাচাই করা হচ্ছে। পরে জানা যায় আটকের প্রায় ২০ ঘন্টা পরে সাজ্জাদকে গতবছরের ডিসেম্বর মাসে নড়িয়ার চামটা এলাকায় নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের একটি মিছিলের ঘটনাকে কেন্দ্র করে হওয়া সন্ত্রাসবিরোধী মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে রবিবার বিকেলে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠায় পুলিশ।
আটক হওয়া সাজ্জাদের স্বজনরা দাবী করেন, তাদের কাছে নড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার দায়িত্বে থাকা উপ-পরিদর্শক (এসআই) জসিম উদ্দিন ২ লাখ টাকা দাবী করেছেন তা না দেওয়ায় সাজ্জাদকে ছাত্রলীগ সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ তুলে গতবছর দায়ের হওয়া একটি সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় গ্রেফতার দেখায়।
এদিকে আরও জানা যায়, স্থানীয় রাশেদ মোল্লা, মাসুম মোল্লাসহ কয়েকজন পূর্বশত্রুতার জেরে ষড়যন্ত্র করে ভোজেস্বর ফাঁড়ির ইনচার্জ উপ-পরিদর্শক (এসআই) জুবায়র হোসেনকে দিয়ে সাজ্জাদ মোল্লাকে আটক করায়।
গ্রেফতার হওয়া সাজ্জাদের মা ইয়ারুন বেগম বলেন, ‘আমার ছেলে কখনো কোন রাজনৈতিক কর্মসূচির সাথে জরিত ছিলনা। এরপরও তাকে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সদস্য বানিয়ে তাকে কারাগারে পাঠানো হলো। এদিকে আমার স্বামী অসুস্থ হয়ে শয্যাশায়ী অবস্থায় আছে। এখন আমি কি করবো ভেবে পাচ্ছিনা।’
এবিষয়ে সাজ্জাদকে আটক করা ভোজেস্বর ফাঁড়ির ইনচার্জ উপ-পরিদর্শক (এসআই) জোবায়ের হোসেন নিজের ভুল স্বীকার করে বলেন, ‘‘সাজ্জাদের ছাত্রলীগের সাথে কোন সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়নি বিষয়টি আমি আমার উপরোস্ত কর্মকর্তাদের জানিয়েছি।’’
গ্রেফতারের বিষয়ে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক (এসআই) বাহাউদ্দিন বাবলা বলেন, কর্তৃপক্ষের আদেশে গ্রেফতার করা হয়েছে।
দুই লাখ টাকা দাবীর বিষয়ে জানতে চাইলে নড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার দায়িত্বে থাকা উপ-পরিদর্শক(এসআই) জসিম উদ্দিন অস্বীকার করেন এবং কেন গত বছরের মামলায় অজ্ঞাত হিসেবে সাজ্জাদ মোল্লাকে গ্রেফতার দেখানো হলো জানতে চাইলে তিনি কোন সদুত্তর দিতে পারেননি।
বিষয়টি নিয়ে জানতে জেলা পুলিশ সুপার রওনক জাহানের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, ‘‘গ্রেফতার হওয়া যুবক যদি তদন্তে নিরপরাধ প্রমাণিত হয় তবে তাকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেয়া হবে।’’
তাকে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলার আসামী করার স্বপক্ষে কোন দলিল বা প্রমাণ পাওয়া গেছে কিনা জানতে চাইলে তিনি কোন সদুত্তর দিতে পারেননি।
